Image

ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা ও বিক্ষোভ: লিমোগেসের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে ছাই, আটক ১৮০০

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 20 মিনিট আগে
ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা ও বিক্ষোভ: লিমোগেসের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে ছাই, আটক ১৮০০

ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা ও বিক্ষোভ: লিমোগেসের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে ছাই, আটক ১৮০০

ফ্রান্সে তীব্র সহিংসতা ও বিক্ষোভ: লিমোগেসের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে ছাই, আটক ১৮০০

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা ও সরকারি অবহেলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ দ্রুত রূপ নেয় সাম্প্রতিককালের অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতায়। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশি সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা দেশ এখন স্তব্ধ।

General view of the Place de la Republique as protesters walk through tear gas during a demonstration at the Place de la Republique in Paris on Saturday, October 17, 2026.

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের ঘটনা শনিবার শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও রাত নামতেই তা সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ (যার মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার শুধু প্যারিসেই) বিক্ষোভে অংশ নেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

সহিংসতার ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে:

  • লিমোগেস: মধ্যাঞ্চলের এই শহরে ১৪৩ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে ভবনটির চূড়া ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • মার্সেই: কালো পোশাকধারী মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে ভাঙচুর ও ভবনটিতে অগ্নিসংযোগ করে।

  • লিওন: শহরের প্রধান পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

  • প্যারিস: বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সংঘাতের এই রাতে প্যারিসের উত্তর অংশে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে) এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া সংঘাতে ৫০০-র বেশি পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এই নৈরাজ্যের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

A fire destroys the city hall in Limoges, central France.

বিক্ষোভের মূল কারণ কী? গত মাস থেকেই দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। মূলত ক্লাস আকৃতি ছোট করা, শিক্ষক সংকট দূর করা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং তরুণদের ওপর পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে তা সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন বয়সের নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশে ধনসম্পদের চরম অসম বণ্টন চলছে এবং বর্তমান সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে চলেছে।

সরকারের কঠোর অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিস, লিওন ও মার্সেইয়ের মেয়রদের সাথে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা সরকারি ভবন ও পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে এবং লুটপাট করেছে, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

সহিংসতার পাশাপাশি পুলিশের অতি-বলপ্রয়োগ নিয়েও জোরালো সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই সংঘর্ষে এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যাওয়া এবং এক শিক্ষার্থীর গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত হারানোর মতো ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জঁ-ল্যুক মেলনশো বলেছেন, গণমাধ্যমে কেবল সহিংসতার চিত্র দেখানো হলেও দেশের বিশালসংখ্যক মানুষ এখনো শান্তিপূর্ণভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সের গণ্ডি পেরিয়ে বেলজিয়াম, আলবেনিয়া ও ইতালির তরুণরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three