Image

সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 42 মিনিট আগে
সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য

সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য

সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে মুম্বাই পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে সালমান খানের বান্দ্রার বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালিয়েছিলেন। তবে কড়া নিরাপত্তার কারণে পরিকল্পনা বদলে তাঁরা টাইগারকে নিশানা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সালমানই মূল লক্ষ্য ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

বলিউড তারকা সালমান খানকে ঘিরে আবারও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মুম্বাইয়ে এসে একাধিক তারকার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছিলেন। তাঁদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কারা ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং অভিনেতা রণবীর সিংকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পর টাইগারের গাড়িতে হামলার ঘটনায় বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

টাইগারের গাড়িতে যেভাবে গুলি চালানো হয়

গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ফুটবল খেলে ফেরার সময় অভিনেতার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেলে আসা তিন সন্দেহভাজনের মধ্যে দুজন গুলি চালান।

এ ঘটনায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হন। হামলার পর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

ঘটনার তদন্তে মুম্বাইসহ ভারতের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী—রেহান আনসারি, ফুল সিং ও ঋত্বিককে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

সালমানকে ঘিরে কী তথ্য পেয়েছে পুলিশ

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মুম্বাইয়ে এসে প্রথমে সালমান খানের বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের আশপাশে যান। সেখানে পুলিশ ও সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি দেখে তাঁরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরে তাঁদের নজর পড়ে টাইগার শ্রফের ওপর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা ও তাঁর ভক্তদের পোস্ট করা ভিডিও দেখে তাঁরা জানতে পারেন, টাইগার নিয়মিত জুহুর একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যান। সেখানে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক কম বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ধারণা করেছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার অন্তত ১০ দিন আগে থেকেই মাঠটির আশপাশে নজরদারি চালানো হয়েছিল। ১১ অক্টোবরও সেখানে গিয়েছিলেন সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। কিন্তু সেদিন টাইগার মাঠে না আসায় হামলা হয়নি। পরে ১৮ অক্টোবর তাঁর গাড়িতে গুলি চালানো হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি মুম্বাইয়ে অবস্থানকালে সালমান ছাড়াও আমির খান ও রণবীর সিংয়ের বাড়ির আশপাশে গিয়েছিলেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তাঁদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে এসব তারকার নাম দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা গুগলে তারকাদের বাড়ির ঠিকানা খুঁজতেন এবং পরে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেতেন। তাঁদের চলাফেরার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য অন্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

তবে সালমান খানই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ।

রোহিত শেঠি। নির্মাতার ফেসবুক থেকে

অস্ত্রের উৎস ও অর্থ লেনদেনের তদন্ত

হামলার ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ লেনদেনের একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অমৃতসর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের পর তা দিল্লিতে নেওয়া হয়। পরে রাধা ভার্মা ও ববিতা রাও নামের দুই নারী অস্ত্রটি মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ।

তদন্তকারীদের ধারণা, অস্ত্র সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে একাধিক ব্যক্তি আলাদা ভূমিকা পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে একে অপরের পরিচয় জানতে না পারেন, সে জন্য অস্ত্র হস্তান্তরে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

অর্থের উৎসও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী ও তাঁদের সহযোগীদের কাছে প্রায় দুই লাখ রুপি পৌঁছানোর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যে ২৫ হাজার রুপিতে একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কেনা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। অর্থের একটি অংশ ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমেও পাঠানো হয়।

হামলার পর ব্যবহৃত অস্ত্র ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মুঠোফোনও নষ্ট করা হয়েছে।

বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

হামলার পরিকল্পনায় অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্ত করছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে গ্যাংটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত শুভম লোঙ্কারের নামও উঠে এসেছে।

টাইগারের গাড়িতে গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিজেকে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি হামলার দায় স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়। বার্তাটিতে সালমানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অডিও বার্তাটির সত্যতা এবং বক্তার পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের সঙ্গে কথিত পরিকল্পনাকারীদের যোগাযোগ কীভাবে হয়েছিল এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সালমানের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার

নতুন তথ্য সামনে আসার পর সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে অত্যাধুনিক সাবমেশিনগানসহ বিশেষ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সালমান আগে থেকেই ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা পান। তাঁর চলাফেরার সময় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে থাকেন। কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

অভিনেতাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর।

২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানো হয়। একই বছরের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে গুলিতে নিহত হন সালমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি। ওই ঘটনাগুলোতেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

টাইগারের ওপর হামলার আগে নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং অভিনেতা রণবীর সিংকে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর একাধিক তারকার বাড়ির আশপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাতায়াতের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় বলিউডে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ীও। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রজগৎ দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধী চক্রের সহজ লক্ষ্য হয়ে আছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, অস্ত্রের উৎস শনাক্ত এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি অন্য তারকাদের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালমান খানসহ বলিউডের একাধিক তারকাকে ঘিরে নিরাপত্তার উদ্বেগ কাটছে না।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three