অন্ধকারে ফেরার কাউন্টডাউন: দ্রুতই এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ঘড়ি

অন্ধকারে ফেরার কাউন্টডাউন: দ্রুতই এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ঘড়ি
অন্ধকারে ফেরার কাউন্টডাউন: দ্রুতই এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ঘড়ি
শরতের বিদায় আর শীতের আগমনের সাথে সাথেই পশ্চিমা বিশ্বে ঘটতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এক পরিবর্তন।
রবিবার ভোররাত ২টা বাজলেই ঘড়ি ঘুরিয়ে রাত ১টা করে দেওয়া হবে। এর ফলে সকালে অন্তত ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত ঘুমের সুবিধা মিললেও, বিকেলের আলো নিভে আসবে অনেক দ্রুত। বিকেল ৫টা বাজার আগেই চারপাশ ঢেকে যাবে গাঢ় অন্ধকারে।
ডেলাইট সেভিং টাইম কী এবং কেন?
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সানলাইট বা প্রাকৃতিক আলোকে ব্যবহারের জন্য এই ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। গ্রীষ্মকালে যখন দিন বড় হয়, তখন সময় ১ ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয় (Spring Forward), যাতে মানুষ সন্ধ্যার আলো বেশি সময় ব্যবহার করতে পারে।
শরীরে ও মানসিক স্বাস্থ্যে পরিবর্তনের প্রভাব
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তন মানবদেহের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm)-কে ব্যাহত করে।
ঘুমের ব্যাঘাত: মাত্র ১ ঘণ্টার হেরফেরেই ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে, যা কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েক দিন সময় লেগে যায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি: সময় পরিবর্তনের পরপরই মানুষের মানসিক মেজাজ খিটখিটে হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনা: অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে সময় পরিবর্তনের পরবর্তী দিনগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পায়।
বিলুপ্তির দাবি কিন্তু আইনি জটলা
বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা ঘুরানোর এই নিয়ম বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এই নিয়ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রস্তাব (Sunshine Protection Act) পাস হলেও তা এখনও সিনেটে আটকে রয়েছে। ফলে আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই বছরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ রাজ্য (হাওয়াই ও অ্যারিজোনা বাদে) এই পরিবর্তনের নিয়ম মেনে চলবে।
আগামী ১ নভেম্বর ভোরে পশ্চিমা দেশগুলোর লাখ লাখ মানুষ এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর আনন্দ পেলেও, দ্রুত অন্ধকার নেমে আসার এই বিষাদময় সময়সূচির সঙ্গেই মানিয়ে নিতে হবে তাদের।
Doomsday Clock | ২০২৬ সালেই ধ্বংস হবে পৃথিবী? বিপদের দূরত্ব মাপে এই ঘড়ি
ভিডিওটিতে ধ্বংসের প্রতীকী ঘড়ি 'ডুমসডে ক্লক' এবং মানুষের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যা সময়ের পরিবর্তন ও তার বৈশ্বিক গুরুত্বের বিষয়ে জানতে সাহায্য করবে।













