বিটিএসের পর গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা স্ট্রে কিডসের
- 1
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা শক্তিশালী, উত্তর খুঁজছে নরওয়েও
- 2
হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
- 3
মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের গোলবন্যা
- 4
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বড় পাল্টা-আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
- 5
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই আর কারও, মেসির ১০ নম্বরের দাবিদার নিকো পাজ?

বিটিএসের পর গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা স্ট্রে কিডসের
বিটিএসের পর গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা স্ট্রে কিডসের
২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ঘিরে এশীয় পপসংগীত নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এবার পুরস্কারের জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এর আগে একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল কে-পপের আরেক জায়ান্ট বিটিএস।
গ্র্যামির আয়োজক রেকর্ডিং একাডেমি গত জুনে ‘Best Asian Pop’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়। এশিয়ার বাজারে তৈরি বা এশীয় সংগীতের সঙ্গে সম্পর্কিত পপসংগীতে শৈল্পিক উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়াই নতুন এই বিভাগের উদ্দেশ্য। তবে ঘোষণার পর থেকেই সংগীতশিল্পীদের একাংশ এর বিরোধিতা করে আসছেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এশীয় সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালু হলে কে-পপ, জে-পপসহ বিভিন্ন এশীয় ধারার সংগীত মূলধারার গ্র্যামি বিভাগ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে Album of the Year বা Song of the Year-এর মতো বড় বিভাগে এশীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই বিতর্কের মধ্যেই স্ট্রে কিডসের রেকর্ড লেবেল JYP Entertainment সংক্ষেপে জানিয়েছে, ‘স্ট্রে কিডস গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা দেয়নি।’
এর আগে জুলাইয়ে বিটিএসও জানিয়েছিল, তারা কোনো বিভাগেই নিজেদের গান বিবেচনার জন্য জমা দেবে না। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তারা চায় তাদের সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে ভাগ না করে তার নিজস্ব পরিচয়ে শোনা ও মূল্যায়ন করা হোক।
স্ট্রে কিডস এত দিন গ্র্যামি নিয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি। তবে আগস্টে নতুন অ্যালবাম This and That-এর প্রচারের সময় সংবাদ সম্মেলনে সদস্য হোয়াং হিয়ন-জিন বলেছিলেন, পুরস্কার বা রেকর্ড কখনোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল না। ভক্তরা যেন খুশি ও সন্তুষ্ট থাকেন—সেটিই তাঁদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
স্ট্রে কিডসের এই সিদ্ধান্ত রেকর্ডিং একাডেমির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নরস বল উৎসবে লর্ড ও এএসপি রকির সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেছে তারা। এর আগে রিও ডি জেনিরোর Rock in Rio উৎসবেও প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পারফর্ম করেছে ব্যান্ডটি।
নতুন বিভাগ নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো ভাষা। মনোনীত গানে এশীয় কোনো ভাষার ‘অর্থবহ ব্যবহার’ থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পরিচিত দুই কোরিয়ান শিল্পী—বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংক—তাদের সাম্প্রতিক ইংরেজিনির্ভর গান দিয়ে এই বিভাগে যোগ্য হবে না।
এশীয় সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালুর পক্ষে রেকর্ডিং একাডেমির যুক্তি হলো, বিশ্বজুড়ে এশীয় পপসংগীতের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নতুন বিভাগটি সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তবে বিরোধীদের মতে, আলাদা বিভাগ তৈরি করে এশীয় সংগীতকে মূলধারার পুরস্কার থেকে আলাদা করে ফেলা হচ্ছে।
এরই মধ্যে স্ট্রে কিডস ও বিটিএসের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আরেক জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ATEEZ-এর নেতা কিম হং-জুং। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিটিএসের অবস্থান তাঁকে ভাবিয়েছে এবং তিনিও বিষয়টি একইভাবে বিবেচনা করতে পারেন।
২০২৭ সালের গ্র্যামির মনোনয়ন ঘোষণা হবে ১০ ডিসেম্বর। তখনই জানা যাবে, আর কোন কোন এশীয় ও কে-পপ শিল্পী পুরস্কারের জন্য নিজেদের গান জমা দিয়েছেন।
স্ট্রে কিডসের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবাম চার্টেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। ব্যান্ডটির সর্বশেষ অ্যালবামসহ মোট ৯টি অ্যালবাম যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবাম চার্টে এক নম্বরে উঠেছে। তাদের চেয়ে বেশি এক নম্বর অ্যালবাম রয়েছে শুধু The Beatles-এর।
চলতি বছর গ্র্যামির ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন স্ট্রে কিডসের আট সদস্যই। ফলে পুরস্কারের জন্য গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিটিএসের সদস্যরাও রেকর্ডিং একাডেমির ভোটার।
তবে বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের সিদ্ধান্তের পরও নতুন বিভাগ বাতিল করছে না রেকর্ডিং একাডেমি। গ্র্যামির প্রধান হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের অনুষ্ঠানে Asian Pop বিভাগ থাকছে।
ম্যাসন জুনিয়র বলেন, এ বিষয়ে এশিয়ার সংগীতাঙ্গনের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছে একাডেমি। কেউ কেউ বিভাগটি না রাখার পক্ষে মত দিলেও অনেক সংগীতশিল্পী নতুন বিভাগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত সবাইকে সন্তুষ্ট করবে না। তবে এশীয় সংগীতকে যথাযথভাবে সম্মান জানানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে একাডেমি।
বিবিসি অবলম্বনে















