ইউএস ওপেন ফাইনালে রিবাকিনা–সাবালেঙ্কা, সিংহাসন ও শিরোপার লড়াই
- 1
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরের প্রতিবাদ, সুসান সারান্ডন-হান্নাহসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
- 2
শেষ মুহূর্তের গোলে অস্ট্রেলিয়ার জয় কেড়ে নিল ব্রাজিল
- 3
তদন্তের জালে রিজওয়ান, ফোন জব্দ থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা—কোথায় গিয়ে থামবে ঘটনা?
- 4
এমবাপ্পের গোলে জয়, জিদানের ডাগআউট অভিষেক রাঙাল ফ্রান্স
- 5
আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে নেপালের বড় চমক

ইউএস ওপেন ফাইনালে রিবাকিনা–সাবালেঙ্কা, সিংহাসন ও শিরোপার লড়াই
ইউএস ওপেন ফাইনালে রিবাকিনা–সাবালেঙ্কা, সিংহাসন ও শিরোপার লড়াই
ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বাছাই এলেনা রিবাকিনা ও বেলারুশের শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা। একজনের সামনে প্রথমবার ইউএস ওপেন জয়ের হাতছানি, অন্যজন তাকিয়ে আছেন টানা তৃতীয় শিরোপার দিকে।
প্রথম সেমিফাইনালে জেসিকা পেগুলাকে ৭-৫, ৬-২ গেমে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটে কিছুটা লড়াই হলেও দ্বিতীয় সেটে একেবারেই দাপুটে ছিলেন গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন। শক্তিশালী সার্ভিস ও আক্রমণাত্মক গ্রাউন্ডস্ট্রোকে পেগুলাকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি তিনি।
এরপর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কোকো গফকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন রিবাকিনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও স্নায়ুচাপ সামলে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরেন কাজাখ তারকা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত গফকে বিদায় করেন তিনি।
ফাইনাল নিশ্চিত করার পর রিবাকিনা জানান, পিছিয়ে পড়ার পর নিজেকে শান্ত রাখতে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও সেই মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে ম্যাচে ফিরতে সাহায্য করেছে।
এবার সামনে সাবালেঙ্কা—আর এই ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার মূল কারণ শুধু ট্রফি নয়।
আগামী সপ্তাহের র্যাঙ্কিংয়ে টানা ৯৯ সপ্তাহ শীর্ষে থাকা সাবালেঙ্কাকে সরিয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন রিবাকিনা। অর্থাৎ ফাইনালের ফল যাই হোক, নতুন বিশ্ব নম্বর ওয়ান হতে যাচ্ছেন তিনি।
তবে শিরোপা জিততে পারলে সেই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে উঠবে। ইউএস ওপেনের ট্রফি হবে রিবাকিনার ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম এবং এই টুর্নামেন্টে তাঁর প্রথম শিরোপা।
অন্যদিকে সাবালেঙ্কার সামনে আরও বড় ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা তৃতীয়বার ইউএস ওপেন জিততে পারলে ২০১৪ সালে সেরেনা উইলিয়ামসের পর প্রথম নারী হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন তিনি।
ফলে ফাইনালে দুই তারকার লক্ষ্যও ভিন্ন। রিবাকিনা চাইবেন নতুন বিশ্ব নম্বর ওয়ান হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে। সাবালেঙ্কার লক্ষ্য হবে হারানো শীর্ষস্থান ও শিরোপা—দুটোরই জবাব কোর্টে দেওয়া।
এবারের ইউএস ওপেন আরও একটি কারণে বিশেষ। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম নারী এককে শীর্ষ চার বাছাইয়ের সবাই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত এসে ঠেকেছে দুই শীর্ষ বাছাইয়ের মহারণে।
সেমিফাইনালের পর সাবালেঙ্কা অবশ্য সন্তুষ্টির সুরেই বলেছেন, ম্যাচ নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই—ফাইনাল জিতে ট্রফি ধরে রাখা।
অন্যদিকে রিবাকিনাও জানেন, সাবালেঙ্কাকে হারাতে হলে তাঁকে নিজের সেরাটা দিতে হবে। সার্ভিস আরও ধারালো করা এবং আক্রমণাত্মক টেনিস ধরে রাখাই হবে তাঁর অন্যতম অস্ত্র।
তাই শনিবারের ফাইনাল শুধুই ইউএস ওপেনের শিরোপা নির্ধারণ করবে না। এক পাশে থাকবে হ্যাটট্রিক শিরোপার অপেক্ষায় থাকা সাবালেঙ্কা, অন্য পাশে প্রথম ইউএস ওপেন ট্রফির স্বপ্নে থাকা রিবাকিনা—আর এর সঙ্গে যোগ হবে বিশ্ব টেনিসের সিংহাসনের নতুন মালিক হওয়ার গল্প।
সব মিলিয়ে, ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে অপেক্ষা করছে শিরোপা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সিংহাসনের এক মহারণ।
















