২০২৭ বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ, জানিয়ে দিলেন কোহলি
- 1
এক মুহূর্তেই শেষ মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট
- 2
মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
- 3
মুশতাকের বিশ্বাস, ‘ভালো ক্রিকেট খেললে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেন নয়?’
- 4
‘বিগ বস বাংলা ৩’: বিতর্কের শীর্ষে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত
- 5
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান মাঠেও, মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার বাংলাদেশের

২০২৭ বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ, জানিয়ে দিলেন কোহলি
২০২৭ বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ, জানিয়ে দিলেন কোহলি
গল্পের শুরুটা হয়েছিল ১৫ বছর আগে, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি দিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন ২২ বছরের বিরাট কোহলি। সেই ইনিংসের পরই অনেকের মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপের ইতিহাসে একদিন বড় বড় রেকর্ডের মালিক হবেন এই তরুণ।
দেড় দশক পর সেই কোহলি এখন ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের সামনে। ভারতীয় তারকা নিশ্চিত করেছেন, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপই হবে ভারতের হয়ে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। জিওস্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ’
২০২৭ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে। বিদেশের কন্ডিশনে টুর্নামেন্টটির শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছেন কোহলি।
তাঁর ভাষায়, “এবার খেলা হবে বিদেশের ভিন্ন কন্ডিশনে, যা শরীর এবং মনের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। তবে আমার জন্য এটিই ভারতের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ। আর এটাই আমার মূল অনুপ্রেরণা—মাঠের লড়াইয়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া।”
এর আগে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেন কোহলি। ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেটও ছেড়ে দেন। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মনোযোগ কেবল ওয়ানডেতে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কোহলির অসাধারণ রেকর্ড
ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপেই ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন কোহলি। এরপর ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩—আরও তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি।
২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রান দিয়ে শুরু করা সেই যাত্রায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাঁর সংগ্রহ ১,৭৯৫ রান। ৩৭ ইনিংসে এই রান করেছেন ৫৯.৮৩ গড়ে, সঙ্গে আছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ১২টি ফিফটি। বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে তাঁর সামনে এখন একমাত্র বড় মাইলফলক শচীন টেন্ডুলকারের ২,২৭৮ রান। সেটি পেরোতে কোহলির প্রয়োজন আরও ৪৮৪ রান।
২০২৩ বিশ্বকাপে কোহলি ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১১ ম্যাচে করেছিলেন ৭৬৫ রান—এক আসরে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও এটি।
৫০ ওভারের বিশ্বকাপ কেন আলাদা?
টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তার যুগেও কোহলির কাছে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের গুরুত্ব আলাদা। কারণ দীর্ঘ টুর্নামেন্টে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই একই মাত্রার তীব্রতা ধরে রাখতে হয়।
কোহলি বলেন, “৫০ ওভারের বিশ্বকাপের তীব্রতা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, এখানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সমপরিমাণ তীব্রতা নিয়ে প্রায় ১০ ম্যাচ খেলতে হয়। বাস্তবে দেখা যায়, এক দিনেই যেন আড়াইখানা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ধকল সইতে হয়।”
২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরই আইসিসি জানিয়েছিল, কোহলি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
শেষ বিশ্বকাপে লক্ষ্য একটাই—শিরোপা
২০১১ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন কোহলি। ২০২৩ সালে ভারত ফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়। এবার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাঁর লক্ষ্যও তাই স্পষ্ট।
“অবশ্যই বিশ্বকাপ জয়ই লক্ষ্য। সে জন্য যা কিছু করা দরকার তা করতে আমি প্রস্তুত,” বলেছেন কোহলি।
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের সামনে একাধিক ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে পরবর্তী ধাপ। এরপর নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে, আর বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার সূচি আছে।

মিরপুরে ২০১১ সালে যে বিশ্বকাপ-গল্প শুরু হয়েছিল একটি অপরাজিত সেঞ্চুরি দিয়ে, সেটির শেষ অধ্যায় এখন নির্ধারিত—২০২৭, দক্ষিণ আফ্রিকা-নামিবিয়া-জিম্বাবুয়ে। আর সেই শেষ অধ্যায়ের আগে কোহলির নিজের কথাতেই লক্ষ্য পরিষ্কার: ভারতের হয়ে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা।














