Image

নাওয়াজের ৯৬ রানের লড়াই থামিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের সোনা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
নাওয়াজের ৯৬ রানের লড়াই থামিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের সোনা

নাওয়াজের ৯৬ রানের লড়াই থামিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের সোনা

নাওয়াজের ৯৬ রানের লড়াই থামিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের সোনা

হাসান নাওয়াজের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল পাকিস্তান। একসময় মনে হচ্ছিল, ২১২ রানের লক্ষ্যও বুঝি পেরিয়ে যাবে তারা। কিন্তু একা নাওয়াজের অসাধারণ লড়াই শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হলো না। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সোনার পদক জিতে নিল ভারত।

জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নিশিনে টস জিতে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১১ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে থামে ১৯২ রানে।

ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন আভিশেক শর্মা। মাত্র ২৮ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংসে সাতটি ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষদিকে তিলাক ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আরও বড় হয় ভারতের সংগ্রহ। ২২ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিলাক। শিভাম দুবের ব্যাট থেকেও আসে গুরুত্বপূর্ণ ২৭ রান।

শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ভারত। দ্বিতীয় ওভারে সাদ মাসুদের বলে বৈভব সূর্যবংশী দুটি ছক্কা মারেন, আভিশেকও যোগ করেন বাউন্ডারি। ওই ওভার থেকেই আসে ২৪ রান। এরপর দ্রুত ফিরে যান সূর্যবংশী ও সাঞ্জু স্যামসন, কিন্তু আভিশেকের ঝড় থামেনি।

মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লের মধ্যেই এটি তাঁর ষষ্ঠ ফিফটি। এই কীর্তিতে দুবারের বেশি করতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান।

অষ্টম ওভারে আভিশেকের বিদায়ের পর অবশ্য ভারতের রান তোলার গতি কমে যায়। ইশান কিষান করেন ২০ রান, অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১। ১১ থেকে ১৬ ওভার পর্যন্ত মাত্র ২৮ রান যোগ করে ভারত। ফলে একটা সময় ২০০ রানও দূরের মনে হচ্ছিল।

শেষ চার ওভারে অবশ্য পুরো চিত্র পাল্টে দেন তিলাক ও দুবে। চার-ছক্কার ঝড়ে ওই চার ওভারে আসে ৬৯ রান। তাতেই ২১১ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ পায় ভারত।

জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান করেন ১০ রান, উসমান খানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই মাজ সাদাকাত ফিরে গেলে ৭ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪২।

সেখান থেকে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরান হাসান নাওয়াজ। আভিশেক শর্মার বলে তাঁর একটি ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর যেন পুরোপুরি বদলে যান তিনি। এরপর একের পর এক ছক্কায় ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন নাওয়াজ। সাইম আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তিনি।

২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নাওয়াজ। ১৫তম ওভারে শিভাম দুবে সাইমকে ২২ বলে ২৯ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেও পাকিস্তানের আশা তখনও বেঁচে ছিল।

শেষ দিকে নাওয়াজের ব্যাটেই পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে ছিল। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি তিনি। আব্দুল সামাদ করেন ৯ বলে ৯ রান। সাদ মাসুদ শেষ দিকে দুটি ছক্কা মারলেও সমীকরণ আর সহজ হয়নি।

শেষ ওভারে নাওয়াজের সামনে ছিল সেঞ্চুরির হাতছানি। একটি ছক্কা মারলেও শেষ বলে আউট হয়ে যান তিনি। ৫১ বলে সাত ছক্কায় ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস শেষ হয় সেখানেই। হতাশায় ব্যাট ছুড়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।

ধারাভাষ্যে সাঞ্জয় মাঞ্জরেকার নাওয়াজের ইনিংসকে ‘সুপার হিরোর মতো’ বলে প্রশংসা করেছিলেন। সত্যিই একার হাতে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটে একার লড়াইয়ে ফাইনাল জেতা কঠিন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থামে পাকিস্তান।

ভারতের হয়ে আকসার প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর নেন দুটি করে উইকেট, শিভাম দুবে নেন দুটি।

এর আগে দিনের ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬৩ রানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। আর ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক নিজেদের করে নিল ভারত।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three