Image

আর্জেন্টিনাকে ‘মিথ্যে’ বলছে মেসির পা জোড়া

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 22 মিনিট আগে
আর্জেন্টিনাকে ‘মিথ্যে’ বলছে মেসির পা জোড়া

আর্জেন্টিনাকে ‘মিথ্যে’ বলছে মেসির পা জোড়া

আর্জেন্টিনাকে ‘মিথ্যে’ বলছে মেসির পা জোড়া

 

‘আমি যা কিছু ছিল সব দিয়েছি। আর কিছুই দেওয়ার নেই।’

৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে কথাগুলো লিখেছিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর ৩৯ বছর বয়সে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তে আবেগে ভেসেছিল আর্জেন্টিনা। মেসি বলেছিলেন, সময় এসেছে সরে দাঁড়ানোর; সামনে উঠে আসা তরুণদেরও জায়গা করে দেওয়া দরকার।

তখন প্রশ্নটা কেউ খুব জোর দিয়ে করেনি—সত্যিই কি মেসির আর কিছু দেওয়ার ছিল না?

কিন্তু অবসরের পর তাঁর পায়ের জাদু যেন সেই কথাটাকেই বারবার মিথ্যে প্রমাণ করছে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচেও তার প্রমাণ মিলেছে। ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ জয়ের ম্যাচে মেসি করেছেন এক গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ বিদায়টাও নিয়েছেন এমন এক পারফরম্যান্স দিয়ে, যেখানে আর্জেন্টিনার তিনটি গোলেই তাঁর সরাসরি অবদান ছিল।

তাই একটু অভিমানী আর্জেন্টিনা সমর্থক চাইলে প্রশ্ন তুলতেই পারেন—মেসির কি সত্যিই আর দেওয়ার কিছু ছিল না?

অবসরের পরও থামেনি মেসির আগুন

ক্লাব ফুটবলে তো মেসি আরও একবার দেখিয়ে দিচ্ছেন, বয়স কেবল একটা সংখ্যা।

১৭ অক্টোবর আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৩–১ জয়ে মেসি করেছেন জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। ম্যাচের প্রথম গোলটিতে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে উঠে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে টেনে বের করে সতীর্থকে গোলের সুযোগ বানিয়ে দেন। এরপর চার মিনিটের ব্যবধানে নিজেই করেন দুটি গোল।

প্রথম গোলটিতে মেসি বল নিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন। দ্বিতীয় গোলেও একের পর এক রক্ষণ ভেঙে গোলমুখে পৌঁছে যান তিনি। ৩৯ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের কাছ থেকে এমন বিস্ফোরক গতি, ড্রিবলিং আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা—এটাই যেন তাঁর অবসরের ঘোষণাকে আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

এ কারণেই বিজয় মার্চেন্টের সেই বিখ্যাত কথাটি মনে পড়ে—অবসরের প্রশ্ন ওঠার আগেই সরে দাঁড়াও, যাতে মানুষ পরে প্রশ্ন করে, ‘কেন অবসর নিলে?’

মেসি যেন ঠিক সেটাই করেছেন।

আর্জেন্টিনার জন্য ক্লান্তি, মেসির জন্য মুক্তি?

তবে মেসির সিদ্ধান্তকে সরলভাবে ‘ফাঁকি’ বলাও হয়তো ঠিক নয়।

জাতীয় দলের হয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে তাঁকে শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের হিসাব দিয়ে বিচার করা হয়নি। তাঁকে বহন করতে হয়েছে একটি দেশের প্রত্যাশা, সমালোচনা, ব্যর্থতার স্মৃতি এবং শেষ পর্যন্ত জয়েরও বিরাট চাপ।

২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে কোপা আমেরিকার হতাশা—সব পেরিয়ে মেসি আর্জেন্টিনাকে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। এরপর স্পেনের কাছে হারের পরই অবসরের সিদ্ধান্ত আসে।

এর মধ্যে যোগ হয়েছে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যু। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় মেসি জানিয়েছিলেন, বাবার মৃত্যুর পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন।

অর্থাৎ ক্লাব ফুটবলে তিনি এখনও আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন বলেই যে জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকেও তাঁকে একইভাবে চালিয়ে যেতে হবে—এমন নয়।

মেসির পা কি সত্যিই ‘মিথ্যে’ বলছে?

আসলে হয়তো মিথ্যে বলছে না মেসির পা। বরং তাঁর কথার ভেতরের অর্থটা আমাদের নতুন করে বুঝতে হচ্ছে।

মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দলের জন্য তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই। সেটার অর্থ হয়তো এই নয় যে তিনি আর গোল করতে পারবেন না, ডিফেন্ডার কাটাতে পারবেন না কিংবা ম্যাচ জেতাতে পারবেন না।

হয়তো তিনি বলতে চেয়েছেন—জাতীয় দলের হয়ে যে দায়িত্ব, যে চাপ, যে প্রত্যাশা এবং যে মানসিক দায় তিনি দুই দশক ধরে বহন করেছেন, সেই অধ্যায়টুকু এবার শেষ করার সময় এসেছে।

ক্লাব ফুটবলে তাই তিনি যখন আবার মাঝমাঠ থেকে ছুটে বক্সে ঢোকেন, তিনজনকে কাটিয়ে গোল করেন কিংবা সতীর্থকে অবিশ্বাস্য পাসে গোল করান, তখন আর্জেন্টিনা সমর্থকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই পা যদি এখনও এত কিছু দিতে পারে, তাহলে জাতীয় দলকে আর কেন নয়?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো মেসি নিজেও পুরোপুরি জানেন না।

হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার ইচ্ছা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—৩৯ বছর বয়সেও মেসিকে দেখে মানুষ যখন প্রশ্ন করে, ‘কেন এখনই অবসর নিলে?’—সেটিই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তিগুলোর একটি।

কারণ ভালোবাসার সঙ্গে মেশানো বিরহের মতো মধুর অনুভূতি আর কী হতে পারে?

মেসি হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর পা জোড়া এখনও ফুটবলকে বলছে—গল্পটা শেষ হয়নি।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three