Image

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস: প্রতিষ্ঠা থেকে বিশ্বজয়ের পথে, সব ট্রফি ও রেকর্ড

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 দিন আগেআপডেট: 36 মিনিট আগে
ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস: প্রতিষ্ঠা থেকে বিশ্বজয়ের পথে, সব ট্রফি ও রেকর্ড

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস: প্রতিষ্ঠা থেকে বিশ্বজয়ের পথে, সব ট্রফি ও রেকর্ড

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস: প্রতিষ্ঠা থেকে বিশ্বজয়ের পথে, সব ট্রফি ও রেকর্ড

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে ম্যানচেস্টার সিটির উত্থান এক অসাধারণ গল্প। একসময় আর্থিক সংকট, অবনমন ও দীর্ঘ ট্রফিখরার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ক্লাবটিকে। অথচ সেই সিটিই পরবর্তী সময়ে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে টানা চারবার শিরোপা জয়, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক ট্রেবল—সব মিলিয়ে সিটির ইতিহাস এখন আধুনিক ফুটবলের আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি।

কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির গল্প শুধু সাম্প্রতিক সাফল্যের নয়। ১৮৮০ সালে একটি স্থানীয় ফুটবল দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৯৪ সালে বর্তমান নাম পাওয়া ক্লাবটির ইতিহাসে রয়েছে একাধিক উত্থান-পতন, কিংবদন্তি ফুটবলার, স্মরণীয় ফাইনাল ও রেকর্ডভাঙা মৌসুম।

ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিষ্ঠা ও শুরুর ইতিহাস

ম্যানচেস্টার সিটির শিকড় ১৮৮০ সালে। পূর্ব ম্যানচেস্টারের ওয়েস্ট গর্টন এলাকার সেন্ট মার্কস চার্চের সঙ্গে যুক্ত একটি ফুটবল দল থেকে ক্লাবটির যাত্রা শুরু। প্রথম দিকে দলটি সেন্ট মার্কস নামে পরিচিত ছিল। ১৮৮৭ সালে এর নাম হয় আর্ডউইক এএফসি।

১৮৯৪ সালে ক্লাবটির পুনর্গঠন হয় এবং নাম রাখা হয় ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব। এর লক্ষ্য ছিল পুরো ম্যানচেস্টার শহরের প্রতিনিধিত্ব করা।

ক্লাবের প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯০৪ সালে। সে বছর বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে হারিয়ে এফএ কাপ জেতে সিটি। এটি ছিল ম্যানচেস্টার শহরের কোনো দলের প্রথম বড় ট্রফি জয়।

১৯২৩ সালে হাইড রোড ছেড়ে মেইন রোডে নতুন ঠিকানা গড়ে ক্লাবটি। দীর্ঘদিন এই মাঠই ছিল সিটির ঘর। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে তারা চলে যায় সিটি অব ম্যানচেস্টার স্টেডিয়ামে, যা বর্তমানে ইতিহাদ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত।

প্রথম লিগ শিরোপা ও ষাটের দশকের সাফল্য

১৯৩৬–৩৭ মৌসুমে প্রথমবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ বিভাগের লিগ শিরোপা জেতে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৯৬০-এর দশকে নতুন সাফল্যের ভিত গড়ে ক্লাবটি।

জো মার্সার ও ম্যালকম অ্যালিসনের অধীনে ১৯৬৫–৬৬ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে ফেরে সিটি। এরপর ১৯৬৭–৬৮ মৌসুমে জেতে দ্বিতীয় লিগ শিরোপা।

১৯৬৮ সালে লিগ জয়ের পর ১৯৬৯ সালে এফএ কাপ এবং ১৯৬৯–৭০ মৌসুমে লিগ কাপ ও ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ জেতে দলটি। একই মৌসুমে ঘরোয়া ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য তাদের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়।

দীর্ঘ অপেক্ষা ও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

১৯৭০-এর দশকের সাফল্যের পর সিটিকে দীর্ঘ সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ১৯৮১ সালে এফএ কাপের ফাইনালে টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে হারে দলটি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে একাধিকবার অবনমন ও পুনরায় উন্নীত হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের।

১৯৯৮–৯৯ মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়া সিটি প্লে-অফের ফাইনালে গিলিংহ্যামকে হারিয়ে ফিরে আসে দ্বিতীয় স্তরে। এরপর ২০০১–০২ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জিতে আবারও শীর্ষ লিগে ওঠে তারা।

২০০৩ সালে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে স্থানান্তর ক্লাবটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। তবে সিটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৮ সালে, যখন আবুধাবিভিত্তিক মালিকানার অধীনে নতুন বিনিয়োগ শুরু হয়।

২০০৮ সালের পর নতুন যুগ

২০০৮ সালের পর ম্যানচেস্টার সিটির দল গঠন, অবকাঠামো ও খেলোয়াড় সংগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ক্লাবটি বিশ্বমানের ফুটবলারদের দলে ভেড়াতে শুরু করে এবং ইংলিশ ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

২০১০–১১ মৌসুমে এফএ কাপ জিতে দীর্ঘ ৩৫ বছরের বড় ট্রফিখরা কাটায় সিটি। পরের মৌসুমে আসে আরও বড় সাফল্য।

২০১১–১২ মৌসুমের শেষ দিনে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে ১৯৬৮ সালের পর প্রথমবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের শিরোপা জেতে তারা। সার্জিও আগুয়েরোর যোগ করা সময়ে করা গোলটি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

২০১৩–১৪ মৌসুমে আবারও লিগ শিরোপা জেতে সিটি। এরপর পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে ক্লাবটির সাফল্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে রেকর্ডের পর রেকর্ড

২০১৬ সালে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন পেপ গুয়ার্দিওলা। তাঁর অধীনে দলটি বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাস, আক্রমণাত্মক ফুটবল ও কৌশলগত নমনীয়তার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে।

২০১৭–১৮ মৌসুমে সিটি ১০০ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতে—লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এই মাইলফলক অর্জন করে তারা। ওই মৌসুমে ৩২টি ম্যাচ জিতে এবং ১০৬ গোল করে নতুন রেকর্ডও গড়ে।

২০১৮–১৯ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড জিতে ইংলিশ ফুটবলে চারটি বড় ঘরোয়া ট্রফি এক মৌসুমে জেতার নজির গড়ে সিটি। পুরুষদের ইংলিশ ফুটবলে এই কৃতিত্বের প্রথম দল তারা।

এরপর ২০২০–২১, ২০২১–২২, ২০২২–২৩ ও ২০২৩–২৪ মৌসুমে টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ জেতে সিটি। ইংল্যান্ডের শীর্ষ বিভাগের ইতিহাসে এর আগে কোনো পুরুষ দল টানা চার মৌসুম চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় ও ঐতিহাসিক ট্রেবল

ম্যানচেস্টার সিটির দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা। ২০২০–২১ মৌসুমে প্রথমবার ফাইনালে উঠলেও চেলসির কাছে হারে তারা।

অবশেষে ২০২২–২৩ মৌসুমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। ইস্তাম্বুলে ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ১–০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে সিটি। রদ্রির করা গোলটি এনে দেয় ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যগুলোর একটি।

সেই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপও জিতেছিল দলটি। ফলে ১৯৯৮–৯৯ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে একই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ট্রেবল সম্পন্ন করে সিটি।

২০২৩ সালে তারা উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও জেতে। ফলে একই সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখার কৃতিত্ব অর্জন করে ক্লাবটি।

ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান ট্রফিগুলো

ক্লাবের অফিসিয়াল ট্রফি তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটির পুরুষদের প্রথম দলের প্রধান সাফল্যগুলো হলো: <Cite refs={["turn714053search1","turn714053search3"]}/>

প্রতিযোগিতাশিরোপাসর্বশেষ শিরোপার মৌসুম
ইংলিশ লিগ / প্রিমিয়ার লিগ১০২০২৩–২৪
এফএ কাপ৮২০২৫–২৬
লিগ কাপ৯২০২৫–২৬
এফএ কমিউনিটি শিল্ড৭২০২৪
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ১২০২২–২৩
ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ১১৯৬৯–৭০
উয়েফা সুপার কাপ১২০২৩
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ১২০২৩

এ ছাড়া দ্বিতীয় স্তরের ইংলিশ লিগে সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিটি। তবে দ্বিতীয় স্তরের শিরোপা, কমিউনিটি শিল্ড এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতাকে মোট ট্রফির হিসাবে কীভাবে ধরা হচ্ছে, তার ওপর সামগ্রিক সংখ্যার পার্থক্য হতে পারে।

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়েরা

সার্জিও আগুয়েরো: ম্যানচেস্টার সিটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৬০ গোল করেন তিনি। ২০১২ সালে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে তাঁর শেষ মুহূর্তের গোল সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেয়।

ভিনসেন্ট কোম্পানি: দীর্ঘদিন দলের অধিনায়ক ছিলেন এই বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। তাঁর নেতৃত্বে সিটি একাধিক লিগ শিরোপা জেতে। ২০১৮–১৯ মৌসুমে লেস্টার সিটির বিপক্ষে তাঁর দূরপাল্লার গোলও স্মরণীয়।

ডেভিড সিলভা: সিটির আক্রমণ সাজানোর অন্যতম প্রধান কারিগর। তাঁর পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতা ক্লাবটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ইয়ায়া তুরে: মাঝমাঠে শক্তি, গতি ও গোল করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স সিটির প্রথম দিককার আধুনিক সাফল্যের অংশ।

কেভিন ডি ব্রুইনে: আধুনিক সিটির অন্যতম সেরা প্লেমেকার। তাঁর দৃষ্টিনন্দন পাস, সুযোগ তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রভাব বিস্তার দলটির একাধিক শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছে।

এরলিং হালান্ড: সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। ২০২২–২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ গোল করে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন।

ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড

ম্যানচেস্টার সিটির অফিসিয়াল ইতিহাসে উল্লেখিত উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে: <Cite refs={["turn714053search2","turn714053search4"]}/>

  • প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ পয়েন্ট: ২০১৭–১৮ মৌসুমে ১০০ পয়েন্ট।

  • এক মৌসুমে সর্বোচ্চ প্রিমিয়ার লিগ গোল: ২০১৭–১৮ মৌসুমে ১০৬ গোল।

  • এক মৌসুমে সর্বোচ্চ লিগ গোল: ১৯২৬–২৭ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে ১০৮ গোল; ২০০১–০২ মৌসুমে প্রথম বিভাগে ১০৮ গোল।

  • এক মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ২০১৮–১৯ মৌসুমে ১৬৯ গোল।

  • প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোল: এরলিং হালান্ডের ৩৬ গোল, ২০২২–২৩ মৌসুমে।

  • সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতা: সার্জিও আগুয়েরো, ২৬০ গোল।

  • সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়: অ্যালান ওকস, ৬৮০ ম্যাচ।

  • সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সর্বোচ্চ জয়: ২১ ম্যাচ, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত।

  • এফএ কাপের রেকর্ড জয়: লিভারপুল স্ট্যানলির বিপক্ষে ১২–০, ১৮৯০ সালে।

রেকর্ডের তালিকা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই প্রকাশের আগে নতুন মৌসুমের ফলাফল যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য হালনাগাদ করা উচিত।

ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ ও তাদের অবদান

সিটির ইতিহাসে বেশ কয়েকজন কোচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জো মার্সার ও ম্যালকম অ্যালিসনের অধীনে ক্লাবটি ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ইংলিশ ও ইউরোপীয় ট্রফি জেতে। পরবর্তী সময়ে রবের্তো মানচিনি ২০১১–১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেন। ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি ২০১৩–১৪ মৌসুমে লিগ জেতেন।

তবে পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে ক্লাবটি সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের সময় পার করে। তাঁর সময়ে সিটি একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, ঘরোয়া কাপ এবং প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতে। ২০১৮–১৯ সালের চার ঘরোয়া শিরোপা এবং ২০২২–২৩ সালের ট্রেবল তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে পড়ে।

ম্যানচেস্টার সিটির ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে বড় স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুই দলের ম্যাচ ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’ নামে পরিচিত। এই লড়াই শুধু শহরের আধিপত্য নয়, ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্য ও সমর্থকদের আবেগের সঙ্গেও জড়িত।

আধুনিক সময়ে লিভারপুল ও আর্সেনালের সঙ্গেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নিয়ে সিটির প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় রেয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজির মতো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচগুলোও সিটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে।

উপসংহার

ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাস দেখায়, ফুটবল ক্লাবের সাফল্য শুধু মাঠের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো, খেলোয়াড় গঠন এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০৪ সালের এফএ কাপ জয় থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ট্রেবল—সিটির যাত্রা বহু প্রজন্মের সাফল্য ও সংগ্রামের সমন্বয়।

আজ ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাব। তাদের ট্রফি, রেকর্ড ও আধুনিক ফুটবলে প্রভাব ক্লাবটিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে। ভবিষ্যতে সিটি আরও কী অর্জন করবে, তা নির্ভর করবে নতুন খেলোয়াড়, কোচিং পরিকল্পনা ও প্রতিযোগিতামূলক ধারাবাহিকতার ওপর।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three