এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার প্রথম হার, ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের দাপট
- 1
জন্মদিনে নানাকে খুঁজছেন পরীমনি, ঘুম থেকে তুলে কেক কাটানোর স্মৃতিতে কাঁদেন
- 2
লেস্টারের বিপক্ষে লুটনের একাদশে এক পরিবর্তন, বেঞ্চে টেডেন মেঙ্গি
- 3
পেশাজীবীদের কাজ সহজ করতে নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ আনল অ্যানথ্রোপিক
- 4
বাস্কেটবল ম্যাচে বিতর্কের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চাকরি ছাড়লেন সাবেক ইএসপিএন সাংবাদিক ব্রিট ম্যাকহেনরি
- 5
৪৬২ মিলিয়ন ডলারের ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’ এখন নেটফ্লিক্সের শীর্ষ সিনেমা, আলোচনায় পেদ্রো পাস্কাল

এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার প্রথম হার, ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের দাপট
এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সার প্রথম হার, ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের দাপট
বার্সেলোনা ১-২ রিয়াল মাদ্রিদ
ক্যাম্প ন্যুতে শেষ হাসি হাসল রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতেছে হোসে মরিনিওর দল। লা লিগায় টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর এটাই বার্সার প্রথম হার। আর রিয়ালের এই জয়ে দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধানও কমে দাঁড়িয়েছে তিনে।
ম্যাচের আগে নিয়মিত গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে যাওয়ায় রিয়ালের গোলবার সামলানোর দায়িত্ব পান আন্দ্রি লুনিন। সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগিয়েছেন ইউক্রেনের এই গোলকিপার। প্রথমার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের দুটি বিপজ্জনক শট ঠেকানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে জেরার্দ মার্তিনের হেড থেকে নিশ্চিত গোলও হতে দেননি।
তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল বার্সেলোনারই দাপটে। প্রথম ১৫ মিনিটে রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ১৫ মিনিটে গর্ডনের শটও দারুণভাবে ঠেকান লুনিন। প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি বার্সা।
ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে গেল রিয়াল
৪১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় রিয়াল। ডান দিক থেকে ইয়ান দিয়োমান্দের দেওয়া ক্রস পরিষ্কার করতে গিয়ে ভুল করেন বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন। তাঁর ক্লিয়ারেন্স গিয়ে লাগে ছুটে আসা এমবাপ্পের শরীরে, সেখান থেকে বল চলে যায় জালে।
গোলটি কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় এলেও রিয়াল তখন পর্যন্ত বার্সার আক্রমণ ভালোভাবেই সামলে রেখেছিল। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিল তারা। আরদা গুলেরের পাস থেকে দিয়োমান্দের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে, সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিলেন ইয়ামাল। গোল খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ডান দিকে লুনিনকে একা পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
রাফিনিয়ার গোলে সমতায় বার্সা
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণে রিয়ালকে চাপে ফেলে তারা।
অবশেষে ৬১ মিনিটে সেই চাপের পুরস্কার আসে। দ্রুত নেওয়া কর্নার থেকে পেদ্রির সহায়তায় বল পেয়ে ডান দিকের বক্স থেকে দুর্দান্ত নিচু শটে গোল করেন রাফিনিয়া। ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে।
গোলের পর ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে যেন নতুন প্রাণ ফিরে আসে। বার্সেলোনা তখন জয়ের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আবারও রিয়ালকে রক্ষা করেন লুনিন।
শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের আঘাত
বার্সেলোনা যখন জয়ের গোলের জন্য চাপ বাড়াচ্ছিল, তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয় রিয়াল।
৮৭ মিনিটে জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত বল নিয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। আরদা গুলের হয়ে বলটি এগিয়ে দেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দিকে। কামাভিঙ্গা বক্সে ঢুকে দারুণভাবে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। ফাঁকা পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ফরাসি তারকা এবার আর ভুল করেননি।
ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এই গোলেই ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে মাদ্রিদের দলটি।
এই গোলটি এমবাপ্পের জন্য আরও বিশেষ। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এটি ছিল তাঁর ১০০তম গোল, যা তিনি ১১৬ ম্যাচে পূর্ণ করলেন।
বার্সার জয়যাত্রা থামাল এমবাপ্পে
এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের গোল করার ধারাও অব্যাহত থাকল। ৪১ ও ৮৭ মিনিটের জোড়া গোল তাঁকে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক বানিয়েছে।
অন্যদিকে, রাফিনিয়ার গোল বার্সেলোনাকে ম্যাচে ফিরিয়েও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি। ৯ ম্যাচে ৯ জয় দিয়ে লিগ শুরু করা বার্সার জয়যাত্রা থামল ১০ম ম্যাচে। ক্লাবটির টানা দশম লিগ জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নও ভেস্তে গেল।
পয়েন্ট টেবিলেও কমল ব্যবধান
এই হারের পরও ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ফলে দুই দলের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র তিন পয়েন্টে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটিও বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয় হার। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল তারা।
অন্যদিকে, ১৩ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে এল ক্লাসিকোয় ফিরেই জয় পেলেন হোসে মরিনিও। আর ক্যাম্প ন্যুতে এমবাপ্পের জোড়া গোলেই শেষ হলো বার্সেলোনার নিখুঁত লিগ শুরুর দৌড়।












