মেসি এবার ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম, অন্যরা কে কত নম্বরে
- 1
মরিনিওর শেষ এল ক্লাসিকোর সেই ১১ তারকা এখন কোথায়, কী করছেন তাঁরা?
- 2
আবারও বিতর্কে নেইমার, ভিএআরে লাল কার্ডের পর প্রতিপক্ষকে হুমকি
- 3
‘এমন ইনিংস জীবনে কখনও দেখিনি’, শাদাবকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আফ্রিদি
- 4
শিউলি ফুলে সাজানো জন্মদিন, নতুন সিনেমা ‘ফারজানা’র ঘোষণা পরীমনির
- 5
চাপের মুখে তিলকের ঝলক, রান তাড়ায় শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড

মেসি এবার ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম, অন্যরা কে কত নম্বরে
মেসি এবার ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম, অন্যরা কে কত নম্বরে
সময় বদলায়, ফুটবলের মঞ্চও বদলায়। কিন্তু লিওনেল মেসির নামটা এখনো ব্যালন ডি’অরের সেরা তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। ৩৯ বছর বয়সে, ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে খেলার পরও ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে বিশ্বের সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
লন্ডনে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে পুরুষদের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে, তৃতীয় বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল এবং চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি। মেসির অবস্থান পঞ্চম।
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কত নম্বরে?
১. হ্যারি কেইন — বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ড
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে — রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স
৩. লামিনে ইয়ামাল — বার্সেলোনা, স্পেন
৪. রদ্রি — ম্যানচেস্টার সিটি/বার্সেলোনা, স্পেন
৫. লিওনেল মেসি — ইন্টার মায়ামি, আর্জেন্টিনা
৬. খভিচা কাভারাস্কেইয়া — পিএসজি, জর্জিয়া
৭. উসমান দেম্বেলে — পিএসজি, ফ্রান্স
৮. আর্লিং হলান্ড — ম্যানচেস্টার সিটি, নরওয়ে
৯. মাইকেল ওলিসে — বায়ার্ন মিউনিখ, ফ্রান্স
১০. ফাবিয়ান রুইজ — পিএসজি, স্পেন
১১. জুড বেলিংহাম — রিয়াল মাদ্রিদ
১২. পাউ কুবারসি — বার্সেলোনা
১৩. আশরাফ হাকিমি — পিএসজি
১৪. ভিতিনিয়া — পিএসজি
১৫. ডেকলান রাইস — আর্সেনাল
১৬. ফেরান তোরেস — বার্সেলোনা/পিএসজি
১৭. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র — রিয়াল মাদ্রিদ
১৮. মার্ক কুকুরেয়া — চেলসি/রিয়াল মাদ্রিদ
১৯. জোয়াও নেভেস — পিএসজি
২০. উইলিয়ান পাচো — পিএসজি
২১. গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস — আর্সেনাল
২২. লাওতারো মার্তিনেজ — ইন্টার মিলান
২৩. নুনো মেন্দেস — পিএসজি
২৪. লুইস দিয়াজ — বায়ার্ন মিউনিখ
২৫. মারকিনিওস — পিএসজি
২৬. দায়োত উপামেকানো — বায়ার্ন মিউনিখ
২৭. ব্রুনো ফার্নান্দেজ — ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
২৮. হুলিয়ান কুইনোনেস — আল-কাদসিয়াহ
২৯. সাদিও মানে — আল-নাসর
২৯. উইলিয়াম সালিবা — আর্সেনাল
৩৯ বছরেও সেরা পাঁচে মেসি
মেসির পঞ্চম হওয়াটাই এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে এখন খেলছেন ইন্টার মায়ামিতে। বয়স ৩৯। তবু বিশ্বের সেরা পাঁচ ফুটবলারের তালিকায় তাঁর নাম।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও মেসির সামনে ছিল আরও বড় পরীক্ষা—আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ। সেখানেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে আট ম্যাচে ৮ গোলের পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করে মোট ১২ গোলে সরাসরি অবদান রাখেন মেসি। তবে বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারেও তাঁকে ছাড়িয়ে যান রদ্রি ও এমবাপ্পে—মেসি পান গোল্ডেন বলের সিলভার ও গোল্ডেন বুটের সিলভার।
৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্সের পর ব্যালন ডি’অরে পঞ্চম হওয়াও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়।
মেসির ওপরে কারা?
এবারের ব্যালন ডি’অরে মেসির ওপরে থাকা চারজনের প্রত্যেকেরই ছিল আলাদা গল্প।
হ্যারি কেইন ২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩ গোল করে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। বায়ার্নকে ঘরোয়া সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগেও করেছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
কিলিয়ান এমবাপ্পে হয়েছেন দ্বিতীয়। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ড পুরো মৌসুমে দুর্দান্ত গোলসংখ্যা গড়েছেন এবং বিশ্বকাপেও ছিলেন আলোচনায়।
লামিনে ইয়ামাল তৃতীয় হয়ে আবারও দেখিয়েছেন, ফুটবলের ভবিষ্যৎ যে তাঁর হাতেই—এমন বিশ্বাসের পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে টানা বড় অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
আর রদ্রি চতুর্থ হয়ে মেসির ঠিক ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন।
পিএসজির তারকারাও মেসির পেছনে
মজার বিষয়, গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজির একাধিক তারকাও মেসির পেছনে শেষ করেছেন। খভিচা কাভারাস্কেইয়া ষষ্ঠ, উসমান দেম্বেলে সপ্তম এবং ফাবিয়ান রুইজ দশম হয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ডও হয়েছেন অষ্টম।
অর্থাৎ, ৩৯ বছর বয়সী মেসি পেছনে ফেলেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অনেক তরুণ ও শীর্ষ তারকাকে।
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে না থেকেও আলোচনায় মেসি
লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের জমকালো অনুষ্ঠানে মেসি উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বরং মায়ামিতে ছিলেন মেসি কাপ ঘিরে, যেখানে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের ভবিষ্যৎ তারকারা অংশ নিচ্ছে।
একদিকে লন্ডনে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছেন, অন্যদিকে মায়ামিতে ৩৯ বছর বয়সী মেসি দেখছেন আগামী দিনের ফুটবলারদের।
দৃশ্যটা যেন সময়ের এক অদ্ভুত চক্র—এক প্রজন্মের সেরা তারকা এখন পরবর্তী প্রজন্মের তারকাদের সামনে দাঁড়িয়ে।

মেসি ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি, অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে, ইউরোপের বাইরে খেলেও যখন বিশ্বের সেরা পাঁচে তাঁর নাম থাকে, তখন সেটিই হয়তো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি।
আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর কাছে পঞ্চম স্থান হয়তো নতুন কোনো অর্জন নয়। কিন্তু ফুটবলের সময়ের সঙ্গে লড়াই করে এত বছর পরও সেই তালিকায় থাকা—সেটি নিঃসন্দেহে মেসির ক্যারিয়ারের বিরল এক অধ্যায়।














