মৃত্যুর আগে বন্ধুকে বার্তা, ধীরে ধীরে হারাচ্ছিলেন চেতনা—নানা পাটেকরের শেষ সময়ের ঘটনা

মৃত্যুর আগে বন্ধুকে বার্তা, ধীরে ধীরে হারাচ্ছিলেন চেতনা—নানা পাটেকরের শেষ সময়ের ঘটনা
মৃত্যুর আগে বন্ধুকে বার্তা, ধীরে ধীরে হারাচ্ছিলেন চেতনা—নানা পাটেকরের শেষ সময়ের ঘটনা
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্রজগৎ। ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলা এলাকায় নিজের বাসভবনে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে অসুস্থ বোধ করার কথা এক বন্ধুকে বার্তায় জানিয়েছিলেন অভিনেতা।
রাত আড়াইটায় বন্ধুকে বার্তা
চিকিৎসক শেখর সালকারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে নানা পাটেকর এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তাঁর শরীর ভালো লাগছে না। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি শরীরের বাঁ দিকে ব্যথার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে গভীর রাত হওয়ায় বন্ধুটি সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি দেখতে পারেননি।
পরে ওই বন্ধু ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং ভোর ৪টার দিকে নানার বাড়িতে পৌঁছান। তখন অভিনেতাকে ঘামতে দেখা যায় এবং তিনি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়ছিলেন। খবর পেয়ে পরিচর্যাকারীর মাধ্যমে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা দলকে ডাকা হয়।
বাড়িতেই শুরু হয় সিপিআর
চিকিৎসকরা বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পান, নানা তখন প্রায় সম্পূর্ণ অচেতন ও সাড়া-প্রতিক্রিয়াহীন। সেখানেই কার্ডিয়াক ম্যাসাজ ও সিপিআর শুরু করা হয়।
ভোর ৪টা ২০ থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালেও প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান চিকিৎসকেরা। কিন্তু তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক সালকার জানান, সকাল ৫টা ২০ থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছিলেন না; বন্ধু ও একজন পরিচর্যাকারী তাঁর পাশে ছিলেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শেষ সিনেমাতেও প্রশংসিত নানা
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাঁর তীব্র অভিনয়, শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রকে গভীরভাবে ধারণ করার ক্ষমতা তাঁকে দর্শকদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।
মৃত্যুর আগে বড় পর্দায় তাঁর শেষ উপস্থিতিগুলোর একটি ছিল বিশাল ভরদ্বাজের‘ও’ রোমিও’। সিনেমাটিতে শহীদ কাপুর, তৃপ্তি দিমরি ও ফরিদা জালালের মতো অভিনেতারাও ছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে দেখা গেছে।
৭৫ বছরেও ফিটনেসে অনুপ্রেরণা
মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও নিজের ফিটনেস দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন নানা পাটেকর। ৭৫ বছর বয়সে শরীরচর্চার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে তাঁকে গলায় গামছা ঝুলিয়ে অনায়াসে ট্রাইসেপ ডিপস করতে দেখা যায়।
বয়সকে যেন একেবারেই পাত্তা না দিয়ে সক্রিয় থাকার সেই ছবি তখন ভক্তদের মুগ্ধ করেছিল। আর কয়েক মাস পরই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সেই স্মৃতিকেই আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
নানা পাটেকরের চলে যাওয়া শুধু একটি অভিনয়জীবনের সমাপ্তি নয়; ভারতীয় সিনেমার শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র এক অভিনয়ধারারও অপূরণীয় ক্ষতি।














