Image

সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 সপ্তাহ আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা

সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা

সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা

এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের বিপর্যয়ের মাঝেই দলটির নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন। বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) থেকে সরাসরি সাইম আইয়ুবকে টেস্ট দলে এনে খেলানোর সিদ্ধান্তকে ‘টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অসম্মান ও অবহেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃষ্টির কারণে আগেভাগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৫২ রান। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান করায় প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ে ৩২০ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন পর্যন্ত কোনো ইনিংসেই ২০০ রান করতে পারেনি তারা। ফলে এজবাস্টনে ইনিংস হারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাসের। সিপিএলে খেলার পর হঠাৎ করে টেস্ট দলে ফেরানো সাইম দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

নাসের বলেন, “আসল কথা হলো, ওর এখানে থাকাই উচিত ছিল না। সে গত ১১ মাসে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি; ১০ দিন আগেও সিপিএল খেলছিল। জানি না, কে মনে করেছে যে বিদেশের কন্ডিশন থেকে উড়িয়ে এনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্করণে খেলার পর এই কন্ডিশনে ডিউক বলের বিপক্ষে সে ভালো করতে পারবে। এটা আসলে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি একধরনের অসম্মান এবং অবহেলা।”

একই অনুষ্ঠানে ছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁরও মনে হয়েছে, সাইমকে ওপেনিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

ব্রড বলেন, “খেলোয়াড়দেরই শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয়। সাইম দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছে, সে কি আরেকটা সুযোগ পাবে? মনে হয় না। সত্যি বলতে, তাঁকে ওপেনিং করানোই ঠিক হয়নি।”

সাইমের ব্যর্থতার পেছনে পাকিস্তানের নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন নাসের। সিপিএলে জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে ভালো পারফর্ম করেছিলেন সাইম। তিন ম্যাচের একটিতে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরিও। এরপর সেখান থেকেই সরাসরি পাকিস্তানের টেস্ট দলে ডাক পান তিনি।

এজবাস্টনে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার পর অবশ্য ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন সাইম। দুই ইনিংসেই শূন্য রানে ফেরেন এই ওপেনার।

পাকিস্তানের দল নির্বাচন নিয়ে শুধু সাইমের বিষয়েই প্রশ্ন তোলেননি নাসের। তাঁর মতে, পুরো দলই এখন দল হিসেবে খেলতে পারছে না। এর পেছনে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন তিনি।

নাসেরের ভাষায়, “সিরিজের মাঝপথেই খেলোয়াড়দের সতীর্থ ও রুমমেটদের দল থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারকেও বাদ পড়তে হয়েছে। যখন সাতজন খেলোয়াড়কে টেস্টের মাঝে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন দলের মৌলিক মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “খেলোয়াড়েরা তখন ভাবতে শুরু করে, দল যখন আমার সতীর্থদের তোয়াক্কা করে না, তখন আমি কেন দলের জন্য খেলব? আমি কেবল নিজেরটা দেখি।”

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন নাসের।

“পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে সাইম আইয়ুবকে দেখলে মনে হয়, অনেকক্ষণ ফিল্ডিংয়ে থাকার পর হঠাৎ ব্যাটিং করতে গিয়ে পুরোপুরি মনোযোগী না থাকার একটা ক্ল্যাসিক উদাহরণ,” বলেন তিনি।

লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সাত ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে দেশে পাঠানো হয় এবং নতুন করে সাতজনকে দলে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়।

তবে এত পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এজবাস্টন টেস্টেও ইনিংস হারের শঙ্কায় থাকা পাকিস্তান সিরিজে ইতিমধ্যেই ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে। নাসের হুসেইনের মন্তব্যে তাই দলটির নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three