‘৫৬ বছর বয়সে বুঝেছি, ৮৬ বছরে বুঝলে দেরি হয়ে যেত’: আমির খান
- 1
কেইন-রাইসের গোলে বায়ার্ন-আর্সেনাল ২-২, জমল কোয়ার্টার ফাইনাল
- 2
আর্জেন্টিনাতেই থাকছেন স্কালোনি, সমঝোতা চূড়ান্ত
- 3
শিশুদের টুথপেস্টসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব প্রত্যাহার, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
- 4
বার্নাব্যুতে রিয়ালের গোল-উৎসব, নিজেদের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস
- 5
গুরুতর চোটে ছিটকে কাভারেস্খেইয়া, পাশে দাঁড়িয়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা

‘৫৬ বছর বয়সে বুঝেছি, ৮৬ বছরে বুঝলে দেরি হয়ে যেত’: আমির খান
‘৫৬ বছর বয়সে বুঝেছি, ৮৬ বছরে বুঝলে দেরি হয়ে যেত’: আমির খান
‘৫৬ বছর বয়সে বুঝেছি, ৮৬ বছরে বুঝলে অনেক দেরি হয়ে যেত’: আমির খান
বলিউডে সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সময় হারিয়ে ফেলেছিলেন আমির খান। প্রায় তিন দশক কাজকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে পরিবার ও কাছের মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারেননি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি। এখন কাজের পাশাপাশি পরিবার ও সম্পর্ককে সময় দেওয়ার বিষয়েও সচেতন হয়েছেন এই অভিনেতা।
বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন আমির খান। সেখানে করোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
আমির বলেন, “করোনার সময় বসে ভাবছিলাম, জীবনের প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এক বছর, দুই বছর কিংবা পাঁচ বছর নিজের কাজ নিয়ে পাগলের মতো মেতে থাকা যায়। কিন্তু সেটা যদি ৩০ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায়। আপনার সন্তানেরা বড় হয়ে যায়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। তখন আমার ভেতরে গভীর এক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।”
কথাগুলো বলতে গিয়ে কয়েকবার থেমে যান অভিনেতা। নিজেকে সামলে নিতে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়ার পর দর্শকদের কাছেও ক্ষমা চান তিনি। তার আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান।
‘৫৬ বছর বয়সে বুঝেছি, ৮৬ বছরে বুঝলে দেরি হয়ে যেত’
আমিরের এই উপলব্ধি অবশ্য শুধু অতীতের আফসোসে আটকে নেই। গত চার বছর ধরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য সচেতনভাবে সময় বের করার চেষ্টা করছেন তিনি। কাজ যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দখল করে না নেয়, সেদিকেও এখন বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন।
এই উপলব্ধি আরও আগে হলে ভালো হতো কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরও নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন আমির।
তার ভাষায়, “আমি খুব খুশি যে এই ভাবনা আমার ৫৬ বছর বয়সে এসেছে, ৮৬ বছর বয়সে নয়। তখন হয়তো কিছু করার জন্য সত্যিই অনেক দেরি হয়ে যেত।”
প্রথম ছবির সাফল্যের পরই ব্যর্থতার ভয়
আলোচনায় নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন আমির। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ তাকে রাতারাতি পরিচিতি এনে দেয়। ছবিটির সাফল্যের পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে নয়টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।
শুরুতে মনে হয়েছিল, পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে দ্রুত ক্যারিয়ারের আরও ওপরে উঠবেন। কিন্তু পরপর কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। একটি সফল ছবির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা হিসেবে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তখন তাকে ভেতর থেকে তাড়িয়ে বেড়াত।
সেই সময়ের কথা স্মরণ করে আমির জানান, তৎকালীন স্ত্রী রিনার কাছে ফিরে গিয়ে কাঁদতেন তিনি। একের পর এক ছবি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
আমিরের ভাষায়, “সেই সময় মানসিক ও আবেগের দিক থেকে মনে হতো, আমি যেন চোরাবালিতে আটকে গেছি। ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছি। বেরিয়ে আসার জন্য যত বেশি চেষ্টা করছি, ততই আরও গভীরে চলে যাচ্ছি।”
সিঙ্গাপুরে বিশেষ সম্মান, ‘লগান’-এর ২৫ বছর

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবার আমির খানকে দেওয়া হয়েছে স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড। হংকংয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা পিটার চ্যান হো-সান তার হাতে এই সম্মান তুলে দেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর সিঙ্গাপুরের কৌতুকাভিনেতা ঋষি বুধরানির সঞ্চালনায় নিজের জীবন, ক্যারিয়ার ও চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন আমির।
এর আগে ২০১৭ সালে এই উৎসবে গিয়েছিলেন তিনি। সেবার উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল তার প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘সিক্রেট সুপারস্টার’। এবার তার প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশের ছবি ‘লগান’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য পেলেও আমির খানের সাম্প্রতিক উপলব্ধি দেখিয়েছে, তার কাছে জীবনের মূল্যায়ন এখন শুধু সিনেমার সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবার, সম্পর্ক এবং কাছের মানুষদের জন্য সময় বের করাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এই উপলব্ধিই এখন তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।















