১৫০ কিমি গতির পেসাররা কেন ধীর হয়ে যান? ওয়াকার ইউনিস জানালেন আসল কারণ
- 1
আজ টিভিতে যা দেখবেন (২৯ অক্টোবর ২০২৬)
- 2
অ্যান্ডারসনকে ‘অসম্মান’ করেছে ল্যাংকাশায়ার, দাবি ব্রডের
- 3
আলভারেজ-কাণ্ডে বার্সেলোনাকে ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা, তবু আপিল করবে ক্লাব
- 4
প্যারিস ভ্রমণের ছবি ঘিরে আলোচনায় আনা দে আরমাস, বেতোর সঙ্গে প্রেমের ইঙ্গিত?
- 5
নেতানিয়াহুকে হটানোর পথ তৈরিতে প্রস্তুত জয়েন্ট লিস্ট, ‘তাঁদের ঘরে পাঠান’

১৫০ কিমি গতির পেসাররা কেন ধীর হয়ে যান? ওয়াকার ইউনিস জানালেন আসল কারণ
১৫০ কিমি গতির পেসাররা কেন ধীর হয়ে যান? ওয়াকার ইউনিস জানালেন আসল কারণ
একসময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করে ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলা পেসারদের কয়েক বছর পরই অনেককে দেখা যায় গতি কমিয়ে ফেলতে। তখন আর শুধু গতি দিয়ে নয়, স্লোয়ার, ইয়র্কার কিংবা নানা বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। আধুনিক ক্রিকেটে পেসারদের এই গতি কমে যাওয়ার কারণ কী?
পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের মতে, এর পেছনে রয়েছে ক্রিকেটের বদলে যাওয়া কাঠামো, অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ, টি-টোয়েন্টির তীব্রতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বোলারদের মানসিকতার পরিবর্তন। শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে এসব বিষয় নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
এখনকার ক্রিকেটে প্রস্তুতির সময় কম
ওয়াকারের সময়ে টেস্ট ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, এরপর ওয়ানডে। ফলে পেসাররা নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেতেন। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়ে সেই সময় ও বিশ্রামের সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে।
ওয়াকারের ভাষায়, ক্রিকেট এখন আগের মতো নেই। তাঁর সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছিল না এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির জন্যও হাতে থাকত বেশি সময়।
চার ওভারই কখনো ১০ ওভারের চেয়ে বেশি চাপের
শুধু ম্যাচের সংখ্যা বাড়াকে অবশ্য পেসারদের গতি কমে যাওয়ার একমাত্র কারণ মনে করেন না ওয়াকার। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টির মানসিক চাপও বড় ভূমিকা রাখছে।
চার ওভারের একটি স্পেল বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও টি-টোয়েন্টিতে প্রতিটি বলেই বোলারকে ব্যাটসম্যানের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। একটি-দুটি বাউন্ডারি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বোলারের চিন্তাভাবনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াকার মনে করেন, টি-টোয়েন্টিতে চার ওভার বোলিং অনেক সময় ওয়ানডেতে টানা ১০ ওভার করার চেয়েও বেশি মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
‘টিকে থাকার চিন্তা ঢুকলেই ১৫০ কিমি গতি থাকে না’
ওয়াকারের বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো বোলারের মানসিকতা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন তরুণ পেসার শুরুতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁকে ব্যাটসম্যানের আক্রমণ সামলানোর জন্য নতুন নতুন কৌশল শিখতে হয়—স্লোয়ার, ওয়াইড ইয়র্কার, ভিন্ন লেংথ কিংবা অন্য বৈচিত্র্য।
সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন উইকেট নেওয়ার বদলে বোলারের চিন্তার কেন্দ্রে চলে আসে রান আটকানো এবং ব্যাটসম্যানের আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টি।
ওয়াকারের ব্যাখ্যা, ‘যখন টিকে থাকার চিন্তা মাথায় ঢুকে যায়, তখন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিটা আর থাকে না।’

নিয়ন্ত্রণ বোলারের হাতে না থাকলেই কমে গতি
ওয়াকারের মতে, ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সময় বোলারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকা জরুরি। অর্থাৎ ব্যাটসম্যান নয়, বোলারই ঠিক করবেন কীভাবে তাঁকে আক্রমণ করতে হবে।
কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, উন্নত ব্যাট এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটের কারণে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে। ব্যাটসম্যান পরপর দুই বাউন্ডারি মেরে দিলে বোলারের মানসিকতাতেও দ্রুত পরিবর্তন আসে বলে মনে করেন ওয়াকার।
টেস্ট বোলারদের জন্য আলাদা ইউনিট চান ওয়াকার
পেসারদের গতি ধরে রাখতে ক্রিকেট বোর্ডগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক এই গতিতারকা।
তাঁর পরামর্শ, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ বোলিং ইউনিট তৈরি করা উচিত। দীর্ঘ সংস্করণের জন্য প্রস্তুত এই বোলারদের চার দিনের বা অন্যান্য দীর্ঘ সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার সুযোগ দিতে হবে।
ওয়াকারের মতে, তাঁদের এমনভাবে প্রস্তুত করা দরকার, যাতে দিনে ২০ থেকে ২৫ ওভার বোলিং করার সক্ষমতার পাশাপাশি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিও ধরে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়। ইংল্যান্ড এমন ব্যবস্থা করেছে এবং অস্ট্রেলিয়াও কিছুটা সেই পথে এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেস ধরে রাখতে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ
ওয়াকার মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে বোলারের ওপর টি-টোয়েন্টির মতো প্রতিটি বলে একই ধরনের আক্রমণাত্মক চাপ থাকে না। ফলে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট পেসারকে নিজের স্বাভাবিক গতি ও বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সুযোগ দেয়।
কিন্তু একজন বোলার যদি দীর্ঘ সময় ধরে টি-টোয়েন্টির মানসিকতা নিয়ে খেলেন, তাহলে সেই অভ্যাস টেস্ট ক্রিকেটেও চলে আসতে পারে। তখন ব্যাটসম্যানকে আক্রমণ করার বদলে তাঁর মাথায় চলে আসে কীভাবে রান আটকানো যায় বা বাউন্ডারি না খাওয়া যায়—যা স্বাভাবিক গতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াকারের বক্তব্যের সারকথা হলো, পেস শুধু শারীরিক সক্ষমতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রস্তুতি, workload, বোলিংয়ের ধরন এবং মানসিকতা। আধুনিক ক্রিকেটে পেসারদের ১৫০ কিলোমিটার গতির ধার ধরে রাখতে হলে দীর্ঘ সংস্করণের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে হবে।














