সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ‘নার্ভাস’ পুরো বাংলাদেশ দল
- 1
মাও সে–তুংকে নিয়ে মিমের বিতর্কে এমবাপ্পে, সম্পর্ক ছিন্ন করল চীনের দুই প্রতিষ্ঠান
- 2
ব্যালন ডি’অরের রাতে সানসা স্টার্ক, বার্না বয় ও আরও তারকার ঝলক
- 3
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন, এক নজরে
- 4
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের তালিকা: ১৯৫৬ থেকে ২০২৬
- 5
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ‘নার্ভাস’ পুরো বাংলাদেশ দল
সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ‘নার্ভাস’ পুরো বাংলাদেশ দল
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশ কাটিয়েছে বেশ স্বস্তিতে। তবে দিন শেষে স্বস্তির চেয়ে অপেক্ষাটাই যেন বড় হয়ে উঠেছে। কারণ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে দাঁড়িয়ে দিন শেষ করেছেন সাদমান ইসলাম। ২১৯ বলে ১০ চারে ৯৯ রানে অপরাজিত এই বাঁহাতি ওপেনারকে ঘিরে এখন পুরো দলেরই অপেক্ষা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান। দিনের শেষ দিকে প্রায় ৫০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর চার ওভার খেলা হলেও আলো আবার কমে যাওয়ায় দিনের খেলা শেষ করে দেন আম্পায়াররা। ফলে সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষাও বাড়ে আরও একটি রাত।
সাদমানের অপেক্ষায় পুরো দল
দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন জানিয়েছেন, সাদমানের ১০০ পূর্ণ করার অপেক্ষায় শুধু ব্যাটসম্যান নিজেই নন, পুরো দলই ‘নার্ভাস’ ছিল।
“আমরা পুরো দলই আসলে দিন শেষে নার্ভাস। সবাই চাচ্ছিলাম যেন ওর একশটা হয়ে যায়। কারণ সে প্রায় ৩০টার মতো টেস্ট খেলেছে, মাত্র দুটি সেঞ্চুরি। আমার মনে হয়, এই সংখ্যাটা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল,” বলেছেন সালাহউদ্দীন।
সাদমানের ইনিংসটি ছিল ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের দারুণ উদাহরণ। শুরুতে উইকেটে থিতু হতে সময় নিলেও পরে নিজের পরিচিত ছন্দে ব্যাট করেছেন তিনি। ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২১৯ বল খেলে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন এই ওপেনার।
৯৯ রানে থামিয়ে দিল প্রকৃতি
দিনের শেষ ভাগে সাদমান যখন সেঞ্চুরির খুব কাছে, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায় আলো। খেলা প্রায় ৫০ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার মাঠে ফেরেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু চার ওভারের বেশি খেলা সম্ভব হয়নি। আলো আবার কমে যাওয়ায় আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষ করে দেন।
অর্থাৎ, সাদমানের হাতে সেঞ্চুরি করার জন্য ছিল মাত্র এক রান। সেই এক রান আর নেওয়া হয়নি প্রথম দিনে।
টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ব্যাটসম্যানের দিন শেষ করার সময় ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা খুবই বিরল। সাদমানের আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর নিজের শততম টেস্টে। এর আগে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করা ১৯ ব্যাটসম্যানের সবাই পরদিন সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুশফিকের মতো সাদমানও কি পারবেন?
মজার ব্যাপার হলো, মুশফিকুর রহিমের সেই অভিজ্ঞতার মাত্র ১৫ মাস পর একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন সাদমান। মুশফিক গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং পরদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন।
সাদমানও এখন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। তাই বাংলাদেশের সমর্থকদের আশা, দ্বিতীয় দিনের সকালেই সাদমানের ব্যাট থেকে আসবে কাঙ্ক্ষিত সেই এক রান।
সালাহউদ্দীনও মনে করেন, সেঞ্চুরি করতে পারলে এই ইনিংস সাদমানের আত্মবিশ্বাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
“আশা করব, এটা (সেঞ্চুরি) হলে সে যেন আরও বুঝতে পারে যে আসলে একশ মারতে হলে কী করতে হয়। আমার মনে হয়, এই ইনিংসটি তার পরবর্তী ক্যারিয়ারে অনেক সাহায্য করতে পারে।”
ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির সামনে
৩১ বছর বয়সী সাদমানের টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত দুটি সেঞ্চুরি। প্রথমটি এসেছিল ২০২১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে—১২০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
এরপর চার বছর পর চট্টগ্রামে আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান। তৃতীয় সেঞ্চুরির জন্য এবার অপেক্ষাটা তুলনামূলক কম হলেও, ১৭ ইনিংস পর আবার তিন অঙ্কের খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
এই ম্যাচের আগে প্রায় আট বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে কোনো ইনিংসে ২০০-এর বেশি বল খেলেননি সাদমান। মিরপুরে আজ ২১৯ বল খেলে নিজের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংসেরও নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
হাল ধরেছেন সাদমান, চোটে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়
বাংলাদেশের ইনিংসে সাদমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ৮৮ রান। হৃদয় ৮৪ বলে ৪২ রান করে ক্র্যাম্পের কারণে অবসরে মাঠ ছাড়েন এবং স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়।
এর আগে তানজিদ হাসান ৭, মুমিনুল হক ২৮ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ রান করে আউট হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৩৩ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
দিন শেষে সাদমান ৯৯* এবং লিটন দাস ১০* রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় দিনের প্রথম বল থেকেই তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা—সাদমানের ব্যাটে সেই এক রান কবে আসবে?















