১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া: রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের বন্যা
- 1
২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?
- 2
মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত
- 3
‘আমরাই চ্যাম্পিয়ন, হয়তো এখন বিশ্বের সেরা দলও’—বার্সাকে হারিয়ে হাকিমি
- 4
গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের
- 5
‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অদ্ভুত স্লোগান, ঘিরে বিতর্ক

১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া: রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের বন্যা
১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া: রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের বন্যা
রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ম্যাচটি যেন ছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক মহোৎসব। একদিকে হ্যারি ব্রুকের মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, অন্যদিকে ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়। দুই দলের ব্যাটসম্যানদের দাপটে ম্যাচে উঠেছে ৮৫৯ রান, যা ওয়ানডে ইতিহাসের এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান।
ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৪২৯/৪ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে এটিই প্রথম ৪০০-এর বেশি দলীয় সংগ্রহ। জবাবে ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কা গড়ে তোলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড। এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার একমাত্র নজির দক্ষিণ আফ্রিকার—২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল তারা।
ব্রুকের রেকর্ডের রাত
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক খেলেছেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি গড়েছেন ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।
ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংসটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে কারণ ইংল্যান্ড ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। ওয়ানডে ইতিহাসে পরাজিত দলের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি। এর আগে হারতে থাকা দলের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রির অপরাজিত ১৯৪ রান, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও নতুন করে লিখেছেন ব্রুক। এর আগে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্যারি কারস্টেনের অপরাজিত ১৮৮ রান ছিল সর্বোচ্চ। মজার বিষয়, এবার শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে রাওয়ালপিন্ডিতে উপস্থিত ছিলেন কারস্টেন এবং নিজের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার সাক্ষী হয়েছেন।
ওপেনার নন—এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও ব্রুকের ২০২ এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে এই তালিকায় শীর্ষে ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০১ রান করেছিলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য রান তাড়া
২৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ১৬৯/২। তখনও জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ২৬১ রান। এত বড় লক্ষ্য শেষ ২৫ ওভারে প্রয়োজন থাকার পরও ম্যাচ জেতার নজির ওয়ানডেতে আর নেই। আগের রেকর্ড ছিল আয়ারল্যান্ডের—২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ২৫ ওভারে ২১৫ রান প্রয়োজন ছিল তাদের।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও ৪০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের তালিকায় শ্রীলঙ্কার এই জয় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়েই এমন বিশাল রান তাড়ার ঘটনা বেড়েছে; ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর ৪০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জেতার সর্বশেষ পাঁচ ঘটনার চারটিই এসেছে এই সময়ের মধ্যে।
আরও যেসব রেকর্ড হয়েছে
ম্যাচে দুই দল মিলে করেছে ৮৫৯ রান। ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মোট রান। সর্বোচ্চ ৮৭২ রান হয়েছিল ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে।
ম্যাচে দুই দলের আটজন ব্যাটসম্যান অন্তত ফিফটি করেছেন। ওয়ানডের এক ম্যাচে আটটি ফিফটি বা তার বেশি ইনিংসের ঘটনা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে তিনবার।
চার মারার ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। দুই দল মিলে মেরেছে ৯৩টি চার—ওয়ানডের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়া–দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে দুই দল মিলে ৮৭টি চার মেরেছিল। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ৪৮টি এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা ৪৫টি চার মেরেছেন।
ব্রুক পেসারদের বিপক্ষে মাত্র ৯০ বলেই করেছেন ১৭৪ রান। বলভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় এমন ওয়ানডে ম্যাচে পেসারদের বিপক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের এটিই সর্বোচ্চ রান। আগের রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার—২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের ইনিংসে পেসারদের বিপক্ষে করেছিলেন ১৬৬ রান।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের পেসার স্যাম কারেন দিয়েছেন ১০৩ রান। পুরুষদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের কোনো বোলারের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ডটিও ছিল কারেনের—২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৮ রান দিয়েছিলেন তিনি।
অর্থাৎ, রাওয়ালপিন্ডির এই ম্যাচটি শুধু শ্রীলঙ্কার বিশাল রান তাড়ার গল্প নয়; হ্যারি ব্রুকের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান, ৮৫৯ মোট রান এবং ৯৩টি চারের মতো একাধিক রেকর্ডের কারণে ম্যাচটি ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হয়ে থাকবে।















