বাভুমা-মিলারের ব্যাটে রান উৎসব, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
- 1
তদন্তের জালে রিজওয়ান, ফোন জব্দ থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা—কোথায় গিয়ে থামবে ঘটনা?
- 2
নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে খুলে যায় পরিবারের অন্ধকার রহস্য, কেমন হলো নেটফ্লিক্সের ‘Run Away’?
- 3
কৃত্রিম টার্ফের শঙ্কায় বিশ্রাম: দক্ষিণ সুদানের বিপক্ষে খেলছেন না সালাহ
- 4
২০২৭ বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ, জানিয়ে দিলেন কোহলি
- 5
‘সিটির অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’, সাবেক ক্লাবের পাশে রদ্রি

বাভুমা-মিলারের ব্যাটে রান উৎসব, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
বাভুমা-মিলারের ব্যাটে রান উৎসব, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার
রানের বন্যা বইল জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে। টেম্বা বাভুমা দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরা কাটালেন, ডেভিড মিলার খেললেন ক্যারিয়ারসেরা ১৪২ রানের ইনিংস। দুই ব্যাটারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩৬৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২–০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে প্রোটিয়ারা। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৬৭ রানে জিতেছিল তারা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা অবশ্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। ইনিংসের প্রথম বলেই এইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেভিয়ার বার্টলেট। কিছুক্ষণ পর কুইন্টন ডি কককেও ফেরান জশ হেইজেলউড।
এরপর দলকে সামলে নেন বাভুমা ও ম্যাথু ব্রিটস্কি। ব্রিটস্কি ৩৪ রান করে ফিরলেও বাভুমা এগিয়ে যান নিজের ছন্দে। ৩৩ রানে থাকা অবস্থায় জ্যাম্পার বলে তাঁর ক্যাচ ছাড়েন জাভিয়ের বার্টলেট—সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক।
৬১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান বাভুমা। ১১২ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই সর্বশেষ শতক করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ তিন বছর ও ২৮ ইনিংসের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
শেষ পর্যন্ত ১০৩ রান করে আউট হন বাভুমা। তাঁর সঙ্গে ১৫৬ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে বড় ভিত্তি দেন ডেভিড মিলার।
মিলার শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ফিফটি পূর্ণ করার পর হয়ে ওঠেন ভয়ংকর। ৭৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে পরের ৫০ রান করেন মাত্র ২৮ বলে। শেষ পর্যন্ত ৯৩ বলে ১৪২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল ৯ ছক্কা ও ১২টি চার।
অস্ট্রেলিয়ার পেসার কুপার কনোলির বলে মিলারের ক্যাচ নেন ক্যামেরন গ্রিন। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে ৫ উইকেটও পূর্ণ করেন এডওয়ার্ডস। দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেই পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
জবাবে দারুণ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ারপ্লেতেই আসে ৭৭ রান। দুজন মিলে যোগ করেন ১৩০ রান। মার্শ ৫৩ বলে ৮৪ রান করে ফোরটানের বলে বোল্ড হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০ চার ও পাঁচ ছক্কা।
হেডও তুলে নেন ফিফটি। তবে ৮৪ রানে তাঁকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান এইডেন মার্করাম। এর আগে ৬৩ ও ৬৬ রানে দুবার জীবন পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। পরের ১২১ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় তারা। অ্যালেক্স কেয়ারি ও ম্যাট রেনশকে ফেরান কেশাভ মহারাজ। ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেন ফোরটান।
একসময় ৩০০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তখন ঝড় তোলেন জাভিয়ের বার্টলেট। মাত্র ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। পাঁচ ছক্কা ও দুই চারে তাঁর ৫০ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা কেবল ব্যবধান কমাতেই কাজে আসে।
লিজাড উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে বার্টলেট ফিরলে অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মার্কো ইয়ানসেন ও লিজাড উইলিয়ামস নেন দুটি করে উইকেট, কেশাভ মহারাজ নেন দুইটি। তবে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ডেভিড মিলার তাঁর ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের জন্য।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী বুধবার।














