ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
- 1
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 2
সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন নীতি টেলর
- 3
এআই দিয়ে বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি নিয়ে ক্ষুব্ধ মেহজাবীন
- 4
মাকে নিয়ে অপপ্রচারে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মৌসুমীপুত্র ফারদিনের
- 5
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল, শেষ ম্যাচেও বড় হার

ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
ইমরান খানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
বলিউড অভিনেতা ও আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মুম্বাইয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা।
যে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিপাকে অভিনেতা
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী ও তাঁর সঙ্গী লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জাইন মেরি খান।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ইমরান খানসহ কয়েকজনকে আটক করে। পরে পুলিশ ভ্যানে বসে থাকা অবস্থায় নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন অভিনেতা। ছবির সঙ্গে রসিকতা করে তিনি লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমি একটু ঘুরে আসতে যাচ্ছি!’
কেন দেশ ছাড়ার নোটিশ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিজেপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কিরীট সোমাইয়া। তিনি এ বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
এরপর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাঁর কর্মকাণ্ড দেশটির অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রযোজ্য আইনের পরিপন্থী।
তবে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে অবস্থান এবং ওসিআই কার্ডধারীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নিয়ে বিষয়টি আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইমরান খানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন জানিয়েছেন, নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ইমরান খানের মার্কিন নাগরিকত্ব
‘জানে তু... ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সে সময় তিনি আরও বলেছিলেন, ভারতীয় নাগরিক না হলেও সচেতনতা তৈরির কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান, কারণ তিনি নিজেকে এই দেশের অংশ বলে মনে করেন।
তবে পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগেও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন
এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ইমরান খান। চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা এনইইটি (NEET) ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদেও তিনি সরব হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ২৮ অক্টোবরের সময়সীমা সামনে রেখে নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আদালতে আবেদন করা হলে বিষয়টি কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। আপাতত দেশ ছাড়ার নোটিশকে ঘিরে অভিনেতার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।














