Image

জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের চুক্তি, অস্বস্তিতে ইসিবি

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 24 মিনিট আগে
জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের চুক্তি, অস্বস্তিতে ইসিবি

জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের চুক্তি, অস্বস্তিতে ইসিবি

জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের চুক্তি, অস্বস্তিতে ইসিবি

ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট দলের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কেভিন পিটারসেন। একই সময়ে অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠান ডাফাবেটের শুভেচ্ছাদূতও হয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। তাঁর এই দুই ভূমিকা নিয়েই অস্বস্তিতে পড়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

৪৬ বছর বয়সী পিটারসেন চলতি সপ্তাহে ফিলিপাইনভিত্তিক অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠান ডাফাবেটের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

ইসিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কোনো ম্যাচ বা প্রতিযোগিতার ফল, অগ্রগতি কিংবা পরিচালনা নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাজি ধরতে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করাও নীতিমালার আওতায় নিষিদ্ধ।

পিটারসেন অবশ্য ইসিবিকে জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় ডাফাবেটের কোনো প্রচারণায় অংশ নেবেন না। ফলে তাঁর জাতীয় দলের দায়িত্বের সঙ্গে জুয়া প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ভূমিকার সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে আগামী এক বছরে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে পিটারসেনের ব্যস্ততা যথেষ্ট বেশি। তাঁর চুক্তি অনুযায়ী, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দলের সঙ্গে আগামী ১৩ মাসে প্রায় ১৫০ দিন কাজ করার কথা রয়েছে তাঁর। এই দায়িত্ব থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত।

আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না পিটারসেন। সিরিজের তৃতীয় দল শ্রীলঙ্কা। তবে শীত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সাদা বলের ম্যাচগুলোতেও দায়িত্ব পালন করবেন।

ম্যাককালামকেও ঘিরে হয়েছিল বিতর্ক

জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইসিবির অস্বস্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও একই ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।

তিন বছর আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ থাকার সময় সাইপ্রাসভিত্তিক জুয়া প্রতিষ্ঠান ‘টুয়েন্টি টু-বেট’-এর শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন ম্যাককালাম। পরে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে আইপিএল ম্যাচে বাজি ধরার প্রচারও করেছিলেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর ইসিবি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ম্যাককালাম তাদের দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ভঙ্গ করেননি। তবে বিতর্ক এড়াতে পরে নিজেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।

ম্যাককালামের চুক্তির সঙ্গে পিটারসেনের বর্তমান চুক্তির একটি পার্থক্যও রয়েছে। টুয়েন্টি টু-বেটের লাইসেন্স ছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের কুরাসাওয়ে। অন্যদিকে ডাফাবেটের যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।

ক্রিকেটে বাজির নিয়ম ভাঙার শাস্তি

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও জুয়া প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রয়েছে। কোনো কাউন্টি দল জুয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আয় করলে সেই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন বা সামাজিক কর্মসূচিতে পুনর্বিনিয়োগ করা হচ্ছে—এমন প্রমাণ দিতে হয়।

ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ম্যাচ বা ক্রিকেট-সংক্রান্ত বাজি নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙার শাস্তির উদাহরণও রয়েছে ইংল্যান্ড দলে।

পেসার ব্রাইডন কার্স ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩০৩টি বাজি ধরার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছিলেন। তাঁকে ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এর মধ্যে ১৩ মাসের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পিটারসেনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ইসিবির কোনো দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম ভঙ্গের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে জাতীয় দলের পরামর্শকের দায়িত্বের পাশাপাশি জুয়া প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ইসিবির অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three