শেবাগপুত্রের ব্যাটিং ঝড়, ১৪৩ বলে ১৭৩ রান করে বাবার স্মৃতি ফেরালেন আর্যবীর
- 1
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 2
সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন নীতি টেলর
- 3
এআই দিয়ে বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি নিয়ে ক্ষুব্ধ মেহজাবীন
- 4
মাকে নিয়ে অপপ্রচারে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মৌসুমীপুত্র ফারদিনের
- 5
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল, শেষ ম্যাচেও বড় হার

শেবাগপুত্রের ব্যাটিং ঝড়, ১৪৩ বলে ১৭৩ রান করে বাবার স্মৃতি ফেরালেন আর্যবীর
শেবাগপুত্রের ব্যাটিং ঝড়, ১৪৩ বলে ১৭৩ রান করে বাবার স্মৃতি ফেরালেন আর্যবীর
বীরেন্দর শেবাগের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের নিশ্চয়ই মনে আছে। বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রান তোলাই ছিল ভারতের সাবেক এই ওপেনারের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এবার বাবার সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন ছেলে আর্যবীর শেবাগ। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ওপেনার।
ভিনু মানকড় ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়ক আর্যবীরের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে ভর করে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করেছে দিল্লি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক আর্যবীর
৮ অক্টোবর বিশাখাপট্টনমে শুরু হয়েছে ভিনু মানকড় ট্রফির এলিট পর্ব। এই টুর্নামেন্টে দিল্লির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্যবীর। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয় তাঁর। এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান।
তবে টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচটি আর্যবীরের জন্য সুখকর ছিল না। কর্ণাটকের বিপক্ষে দিল্লি ৪১৮ রান হজম করার পর অলআউট হয়ে যায় মাত্র ২২০ রানে। সেই ম্যাচে আর্যবীরের ব্যাট থেকে এসেছিল ৩২ রান। ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ যেন পুষিয়ে দিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লিকে ভালো শুরু এনে দেন আর্যবীর ও অর্নব বুগ্গা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৯৮ রান। ৪৭ রান করে রূপেশ যাদবের বলে আউট হন অর্নব। এরপর ১০৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দিল্লি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন আর্যবীর। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তাঁর ৪৮ রানের জুটি গড়ে ওঠে। অভিরাজ করেন ১৮ রান। একপর্যায়ে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৭৯।
চার-ছক্কায় ১২৪ রান
সেখান থেকে শান্তনু যাদবকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে আরও ৮৯ রান যোগ করেন আর্যবীর। শান্তনুর অবদান ২৭ রান। অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে নিজের রান বাড়িয়ে যান শেবাগপুত্র।
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে শ্রেষ্ঠ দুগ্গলের বলে আউট হওয়ার আগে ১৪৩ বলে ১৭৩ রান করেন আর্যবীর। তাঁর ইনিংসে ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১২৪ রান। চণ্ডীগড়ের বোলারদের মধ্যে রূপেশ যাদব নিয়েছেন দুটি উইকেট। আর্যবীরের আক্রমণের ঝড় বিশেষভাবে সামলাতে হয়েছে পার্থ গুপ্তাকে।
বাবা বীরেন্দর শেবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। টেস্ট ক্রিকেটেও ওয়ানডের মেজাজে ব্যাট চালিয়ে বোলারদের চাপে রাখতেন তিনি। আর্যবীরের এই ইনিংসেও যেন সেই ব্যাটিং দর্শনের ছাপ দেখা গেল।
যুব দলে ধারাবাহিকতার প্রমাণ
আর্যবীরের প্রতিভার পরিচয় অবশ্য এই প্রথম নয়। গত সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ভারতের হয়ে ১০৯ রান করেছিলেন তিনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ৭ রানে।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে আর্যবীরের ব্যাট থেকে। রানআউট না হলে ফিফটি পাওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। শেষ ম্যাচে করেন ৩৪ রান। তিন ম্যাচেই রান পেয়ে ধারাবাহিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন এই তরুণ ওপেনার।
দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে আর্যবীরের। সেখানে ওয়েস্ট দিল্লি লায়নসের হয়ে খেলেছেন তিনি। এবার ভিনু মানকড় ট্রফিতে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলে আবারও নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন শেবাগপুত্র।














