পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের নতুন সমাধান হতে পারেন মাজ সাদাকাত
- 1
সুইমিংপুলে পরীমনির ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল, কয়েক ঘণ্টায় ১৬ লাখ ভিউ
- 2
দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে আলাদা সাবিলা নূর, বিচ্ছেদের গুঞ্জন
- 3
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 4
নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা
- 5
সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন নীতি টেলর

পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের নতুন সমাধান হতে পারেন মাজ সাদাকাত
পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের নতুন সমাধান হতে পারেন মাজ সাদাকাত
পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ে আগ্রাসনের অভাব নতুন কোনো সমস্যা নয়। বড় ইনিংস খেললেও পাওয়ার প্লেতে ধীরগতির ব্যাটিং, শুরুতে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং রান তোলার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার প্রবণতা বারবার ভুগিয়েছে দলটিকে। এই সমস্যার কারণে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানদেরও দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে। এবার সেই ঘাটতি পূরণে সম্ভাবনার নতুন নাম হয়ে উঠেছেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত।
কেন আলোচনায় মাজ সাদাকাত?
টি-টুয়েন্টিতে অন্তত এক হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র ২২ জনের ব্যাটিং গড় ৩০-এর বেশি এবং স্ট্রাইক রেট ১৫০-এর বেশি। এই তালিকায় পাকিস্তানের একমাত্র প্রতিনিধি সাদাকাত।
পরিসংখ্যান বলছে, আধুনিক টি-টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুণ—নিয়মিত রান করা এবং দ্রুত রান তোলা—দুটিই রয়েছে তাঁর মধ্যে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত, অল্প সময়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ।
গত মাসে এশিয়ান গেমসে টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর পাকিস্তানের হয়ে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সাদাকাত। পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও পাকিস্তানকে আশাবাদী করে তুলেছে।

৮ ইনিংসে ৪৫১ রান, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯৫
গত এক মাসে সাদাকাতের ব্যাটিং ছিল দুর্দান্ত। আট ইনিংসে ৪৫১ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৩৯।
সর্বশেষ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে দুটি সেঞ্চুরি করেন সাদাকাত। মজার বিষয়, তাঁর এই দুই শতকই এসেছে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ও ফাইনালে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও পাকিস্তানের হয়ে প্রথম দুই টি-টুয়েন্টিতে দুটি অর্ধশতক করেন তিনি। এর মধ্যে এক ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৯৬ রান।
এমন ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের টপ অর্ডারে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওপেনারদের ধীরগতির ঘাটতি পূরণ করতে পারেন
সাদাকাত মূলত ওপেনার হলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাট করতে দেখা গেছে। সেই সিরিজে পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস শুরু করেছেন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। ফলে আপাতত তিন নম্বরেই সাদাকাতের খেলার সম্ভাবনা বেশি।
অন্তত ৪৫০ রান করা জুটিগুলোর মধ্যে ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহানের চেয়ে দ্রুত রান তোলা পাকিস্তানের আর কোনো উদ্বোধনী জুটি নেই। তবে দুজনেরই শুরুতে সতর্ক থাকার প্রবণতা রয়েছে। প্রথম সাত-আটটি বল দেখে খেলার পর তাঁরা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পাওয়ার প্লের প্রথমার্ধে রানের গতি কমে যায়।
তিন নম্বরে সাদাকাত থাকলে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে পাকিস্তান। ওপেনাররা বেশি ডট বল খেললেও দ্রুত রান তুলে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে পারবেন তিনি। আবার ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দিলে সেই গতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যও রয়েছে তাঁর।
এ কারণে পাকিস্তানের টপ অর্ডারে সাদাকাতের উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিষয় নয়; এটি দলের পুরো ব্যাটিং পরিকল্পনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়েই কার্যকর
টি-টুয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাট করা সহজ নয়। পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি মাঝের ওভারগুলোতেও রান তোলার গতি ধরে রাখতে হয়। উইকেট পড়লে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নিতে হয়, আবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চালিয়ে যেতে হয় আক্রমণ।
এ জন্য পেস ও স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই কার্যকর হওয়া জরুরি। সাদাকাতের পরিসংখ্যান এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক। সব ধরনের টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে পেসারদের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটিং গড় ৩৭.২১ এবং প্রতি ওভারে রান তোলার হার ১০.৩৯। স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটিং গড় ৩৭.৫৮, রান তোলার হার প্রতি ওভারে ৯.৪৪।
দুই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই এমন পারফরম্যান্স তিন নম্বর পজিশনে তাঁকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
মাঠের সব দিকেই শট খেলার সামর্থ্য
সাদাকাতের ব্যাটিংয়ের আরেকটি বড় শক্তি হলো মাঠের বিভিন্ন দিকে শট খেলার দক্ষতা। শুধু সোজা ব্যাটে কিংবা মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বড় শট খেলেই রান করেন না তিনি; অফ সাইডেও রয়েছে তাঁর শটের বৈচিত্র্য।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংসে সামনের ও পেছনের পায়ে ভর করে পয়েন্টের সামনে-পেছনে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন সাদাকাত। ওই ইনিংসে দাসুন শানাকার অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল রিভার্স প্যাডল করে উইকেটকিপার ও শর্ট থার্ডম্যানের মাঝের ফাঁক দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান তিনি। পরে নুয়ান তুষারাকে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে র্যাম্প শটও খেলেন।
এ ধরনের শট খেলার সামর্থ্য তাঁকে বোলারদের জন্য আরও কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় রান বের করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় চাপের মুহূর্তেও স্কোরবোর্ড সচল রাখা সম্ভব।
অবশেষে কি তিন নম্বরের সমাধান?
২০২৫ সালের শুরু থেকে টি-টুয়েন্টিতে তিন নম্বর পজিশনে ৪৮ ম্যাচে ১০ জন ব্যাটসম্যানকে খেলিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এখনো এই জায়গায় স্থায়ী কাউকে খুঁজে পায়নি দলটি।
সাদাকাতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান সামনে এনেছে। তাঁর ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন রয়েছে, পেস ও স্পিনের বিপক্ষে কার্যকারিতা আছে, মাঠের বিভিন্ন দিকে শট খেলার দক্ষতাও রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংসের গতি বদলানোর সামর্থ্যও দেখিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তবে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলার পর তাঁকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। প্রতিপক্ষের বোলাররা তাঁর ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসবেন। সেই চ্যালেঞ্জ সামলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই পাকিস্তানের তিন নম্বর পজিশনে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবেন মাজ সাদাকাত।















