Image

সৌদি টাইফুন ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 56 মিনিট আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সৌদি টাইফুন ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি টাইফুন ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি টাইফুন ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আরও তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যে ব্রিটেনের কাছ থেকে কেনা সৌদি আরবের একটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, হুতি-সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একটি বস্তু ছুটে যেতে এবং এরপর বিমানটিতে আগুন ধরে যেতে দেখা যায়। হুতিদের দাবি, এটি সৌদি আরবের একটি ইউরোফাইটার টাইফুন।

তবে ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে লন্ডনের ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক স্টিভেন ওয়াগনার বিমানটি ইউরোফাইটার টাইফুন বলেই মনে করলেও সেটি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ভিডিওর শুরুতে একটি বিস্ফোরণ দেখা গেলেও সরাসরি বা ভয়াবহ আঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। পাইলট এড়ানোর কৌশল এবং ফ্লেয়ার ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওয়াগনারের ধারণা, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সম্ভবত ইরানের তৈরি একটি প্রচলিত মোবাইল সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা। এ ধরনের ব্যবস্থা আক্রমণের ঠিক আগে সক্রিয় করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। ফলে রাডার শনাক্ত করে পাল্টা হামলা চালানোর সুযোগ কমে যায়।

হুতিদের দাবি সত্য প্রমাণিত হলে, ইরানের সরবরাহ করা কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে সৌদি আরবের একটি টাইফুন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনা হবে উল্লেখযোগ্য ও বিরল। সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি বিমানবাহিনীতে ইউরোফাইটার টাইফুন রয়েছে।

ব্রিটেনের সঙ্গে ‘প্রজেক্ট সালাম’ নামে পরিচিত একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ৭২টি ইউরোফাইটার টাইফুন কিনেছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল প্রায় ৪.৪৩ বিলিয়ন পাউন্ড।

স্টিভেন ওয়াগনার আরও বলেন, এফ-৩৫-এর মতো স্টেলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের অতর্কিত হামলার কৌশল একবার প্রকাশ্যে চলে এলে ভবিষ্যতে পাইলট ও সামরিক বাহিনী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করবে, ফলে একই পদ্ধতি বারবার ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পাঁচ ক্ষেপণাস্ত্র

এর মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে। হুতি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কেন্দ্রস্থলে হুতিদের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত রয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই হামলার পর ইয়েমেনে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রও সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার হুতি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দরকে ‘অনিরাপদ’ ঘোষণা করেন। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমাকে এর বাইরে রাখার কথা জানান তিনি।

ইয়েমেনের এই নতুন উত্তেজনা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সংঘাতকে আরও বড় আঞ্চলিক সংকটে পরিণত করার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three